সোনা না রিয়েল এস্টেট: গত দেড় দশকে কোথায় বিনিয়োগে বেশি লাভ?

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৭ বার
শর্ট টাইটেল: বিমানবন্দর স্বর্ণ আত্মসাত

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারতীয় উপমহাদেশের আর্থিক সংস্কৃতিতে সোনা এবং রিয়েল এস্টেট দুটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে বহু দশক ধরে। কেউ সোনাকে মনে করেন সংকটকালে নিরাপদ আশ্রয়, আবার কেউ রিয়েল এস্টেটকে দেখেন দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সম্পদ ও ভবিষ্যতের পুঁজি সঞ্চয়ের অবলম্বন হিসেবে। তবে বিগত এক যুগ বা তার বেশি সময়ের আর্থিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে একেবারে ভিন্ন একটি চিত্র সামনে আসে, যা বিনিয়োগকারীদের ভাবনায় রীতিমতো পরিবর্তন আনার মতো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগে স্থিতিশীলতা এবং সময়ের সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি। পাশাপাশি নগরায়ণ, মেগা প্রকল্প, নতুন এক্সপ্রেসওয়ে ও বাণিজ্যিক করিডোরের প্রসার এই খাতকে ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। বিশেষ করে নয়ডা, গুরগাঁও, দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ে, হায়দরাবাদ, পুনে এবং বেঙ্গালুরুর মতো শহরে গত এক দশকে সম্পত্তির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়ির চাহিদা, ভাড়া আয় এবং বিলাসবহুল বসবাসের আকর্ষণও এ খাতকে জোরদার করেছে।

তবে পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ভারতের BankBazaar-এর সিইও অধিল শেঠি জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ১৫ বছরে সোনার চক্রবৃদ্ধি বার্ষিক রিটার্ন (CAGR) ছিল ১১.৩ শতাংশ, যেখানে রিয়েল এস্টেটের ছিল মাত্র ৬.৪ শতাংশ। এর অর্থ, যদি কেউ ₹১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতেন সোনায়, আজ তার পরিমাণ দাঁড়াত ₹৫ লক্ষের মতো। কিন্তু একই পরিমাণ টাকা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করলে তা পৌঁছাত মাত্র ₹২.৫ লক্ষে।

এখানেই শেষ নয়, সোনার বিনিয়োগ আজ আরও সহজ, দ্রুত ও তুলনামূলকভাবে কম জটিল। ডিজিটাল সোনা, গোল্ড ETF, সোনার বন্ড ইত্যাদি বিকল্প মাধ্যমে এখন যে কেউ সহজেই সোনায় বিনিয়োগ করতে পারেন। এর সঙ্গে নেই রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি বা পরিকাঠামোগত জটিলতা। তরল সম্পদ হিসেবে সোনার উচ্চতা আজ অনন্য, যা যে কোনো সময়ে নগদে রূপান্তরযোগ্য।

২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, সোনা গত এক বছরে ৪৩.১ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে, যা রিয়েল এস্টেটের ৭.৪ শতাংশ রিটার্নের তুলনায় অনেক বেশি। এমনকি ১০ বছর ও ১৫ বছরের সময়সীমাতেও সোনাই সবদিক থেকে এগিয়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি ভারসাম্যপূর্ণ পোর্টফোলিও তৈরিতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ সোনা রাখা যেতে পারে। তবে পুরো বিনিয়োগ সোনায় কেন্দ্রীভূত না করার পরামর্শও দিচ্ছেন তারা, যাতে সম্পদ বৈচিত্র্য বজায় থাকে।

তবে এর মানে এই নয় যে, রিয়েল এস্টেট তার গুরুত্ব হারিয়েছে। স্থায়ী পুঁজি, মাসিক ভাড়া আয় এবং ভবিষ্যতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি আজও এই খাতকে গুরুত্বপূর্ণ রাখে। একদিকে যেখানে সোনা সংকট মোকাবেলায় জরুরি নিরাপত্তা দেয়, সেখানে রিয়েল এস্টেট ধীরে ধীরে পুঁজিবৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

অতএব, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিনিয়োগকারীদের উচিত নিজের লক্ষ্য, সময়সীমা, ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা এবং তরলতা চাহিদা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর্থিক পরিকল্পনার চাবিকাঠি হলো সামঞ্জস্য এবং সচেতনতা—সেখানে সোনা ও রিয়েল এস্টেট, উভয়েরই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, যদি সঠিক পরিপ্রেক্ষিতে ব্যালান্স বজায় রাখা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত