গণতন্ত্রকে শর্তসাপেক্ষে গ্রহণ নয়, জনগণের অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে হবে: ড. মঈন খান

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৬ বার
গণতন্ত্রকে শর্তসাপেক্ষে গ্রহণ নয়, জনগণের অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে হবে: ড. মঈন খান

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, গণতন্ত্র কোনো শর্তসাপেক্ষ রাজনৈতিক বিলাসিতা নয়— এটি জনগণের অধিকার এবং সংবিধানসম্মত রূপরেখা। সুতরাং ‘আগে সংস্কার, আগে বিচার, পরে নির্বাচন’— এই ফর্মুলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শনিবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ভুবন মোহন পার্কে বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির আওতায় ফরম বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “একসময় স্বৈরাচারী সরকার বলেছিল— আগে উন্নয়ন, পরে গণতন্ত্র। আজ কেউ বলছেন— আগে বিচার, আগে সংস্কার, পরে গণতন্ত্র, পরে নির্বাচন। এই ভাষা জনগণের নয়। আমরা এই বিভ্রান্তিকর বক্তব্য শুনতে চাই না, বিশেষ করে যারা নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দাবি করেন, তাদের মুখে নয়।”

ড. মঈন খান আরও বলেন, “সংস্কার ও বিচার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটা একদিনে শেষ করে দেওয়ার মতো কিছু নয়। কেউ যদি মনে করেন, সমস্ত সংস্কার আগে করে তবেই গণতন্ত্র ও নির্বাচন হবে— সেটি একধরনের অজুহাত মাত্র, যার পেছনে উদ্দেশ্য হচ্ছে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বিলম্বিত ও ব্যাহত করা।”

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি পথভ্রষ্ট রাজনৈতিক দল। তাদের শাসনামলে মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং দমননীতিকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত করা হয়েছে। যার ফল আজকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও জাতির বিভক্তি।”

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমরা স্বৈরাচারী রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা শক্তি দিয়ে নয়, যুক্তি, সংবিধান এবং জনগণের সমর্থন দিয়ে পরিবর্তন চাই। ১৬ বছর ধরে আমরা ধৈর্য ধরেছি। সামনের কয়েক মাসেও আমরা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবো না, নিয়মের বাইরে যাবো না। কিন্তু এটা যেন কেউ দুর্বলতা না ভাবে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই হচ্ছে পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

তিনি বলেন, “আমরা জানি— দেশে বিচার ও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সেই কাজ সংবিধান ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই করতে হবে। এটা যেন কোনোভাবেই অজুহাত না হয়— জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার।”

আওয়ামী লীগের প্রতি সরাসরি প্রশ্ন রেখে ড. মঈন খান বলেন, “গত ১১ মাস ধরে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি, যারা জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে সাহসের সঙ্গে বলেছে— হ্যাঁ, আমরা ভুল করেছি, ক্ষমা চাই। এতবড় রাজনৈতিক দলে কি একজন মানুষও নেই, যে সত্য স্বীকার করে আত্মসমালোচনা করতে পারে?”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি একটি আলাদা মাত্রার রাজনৈতিক দল। আমরা পথ হারানোদের মতো আচরণ করবো না। আমরা বিশ্বাস করি— জনগণই সবকিছুর উৎস। তারা যদি আমাদের প্রত্যাখ্যান করে, সেটাও গণতন্ত্র। কিন্তু যারা সুষ্ঠু নির্বাচনকে ভয় পায়, তারাই প্রকৃত স্বৈরাচার।”

রাজশাহীর জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা অনেক প্রতিকূলতা সহ্য করেছেন। আজকে সময় এসেছে এই ভয়কে অতিক্রম করার। দেশকে শৃঙ্খলা ও ইনসাফের পথে ফেরানোর সময় এসেছে। এই দেশের প্রতিটি মানুষ যেন তার ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে— সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।”

এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা এবং শতাধিক নতুন সদস্য ও কর্মী। বক্তৃতা শেষে সদস্য সংগ্রহ ফরম বিতরণ করা হয় এবং জনগণের মাঝে ‘গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের বার্তা’ ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।

এভাবেই রাজশাহীর জনসভা থেকে একটি বার্তা উচ্চারিত হলো— ‘গণতন্ত্র শর্ত নয়, এটি অধিকার।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত