প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার হুমকি দিয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আইসিবি ফিনান্সিয়াল গ্রুপ। ২০০৮ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত না করায় এবং ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ থেকে কার্যত বিচ্যুত করার অভিযোগ এনে এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইসিবি ফিনান্সিয়াল গ্রুপ বর্তমানে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের (সাবেক ওরিয়েন্টাল ব্যাংক) বড় শেয়ারহোল্ডার। ২০০৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে তারা ব্যাংকটির ৫৩ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে। বিনিয়োগের অঙ্ক ছিল ৩৫০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বিনিয়োগের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের আশ্বাস দিয়েছিল, ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের পূর্বের কোনো দায় ভবিষ্যতে বহন করতে হবে না, এবং আইসিবি গ্রুপ দায়মুক্ত থাকবে।
কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডারদের একাধিক মামলায় ব্যাংকের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এসব মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় আইসিবি গ্রুপের বিনিয়োগ অনিরাপদ হয়ে পড়ে। ব্যাংকের ওপর প্রভাবও ক্রমেই হ্রাস পেতে থাকে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে দেয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তাকে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে নিযুক্ত করে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিয়ন্ত্রণ কার্যত শূন্যে নেমে আসে।
এই প্রেক্ষাপটে গত ৭ জুলাই আইসিবি ফিনান্সিয়াল গ্রুপের চেয়ারপারসন জোসেফিন সিভারেতনাম গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকেও।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক চুক্তির অধীনে তার দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছে এবং এখনকার প্রেক্ষাপটে ২০০৮ সালের চুক্তিটি অকার্যকর হয়ে গেছে। এছাড়া, বিনিয়োগ নিরাপত্তা ও সুশাসনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার কোনোটিই বাস্তবায়ন হয়নি। নিয়ন্ত্রণ না ফিরিয়ে দিলে তারা আদালতে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, আইসিবি ফিনান্সিয়াল গ্রুপ একসময় আগ্রহ নিয়ে ব্যাংকটিতে বিনিয়োগ করেছিল। এখন রাষ্ট্রীয় সহায়তায় একটি আইনসঙ্গত সমাধান হলে তা সকলের জন্যই ইতিবাচক হবে বলে আশা করেন তিনি।
এই পরিস্থিতি বিদেশি বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সুশাসন প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আইসিবি ফিনান্সিয়াল গ্রুপের হুমকি বাস্তবায়িত হলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি ফোরামে পৌঁছাতে পারে, যা দেশের ভাবমূর্তির জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।