মিটফোর্ডের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে ‘তদন্ত ও তথ্যানুসন্ধানী কমিটি’ গড়ছে বিএনপি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৪ বার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রকাশ্য দিবালোকে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে পাথর দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ইতিমধ্যেই দেশের বিবেকবান মানুষকে নাড়া দিয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা ছড়ানো এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে এবার সরাসরি মাঠে নামছে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন ও পেছনের কারিগরদের মুখোশ উন্মোচনের জন্য দলটি একটি ‘তদন্ত ও তথ্যানুসন্ধানী কমিটি’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, মিটফোর্ডের মতো ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড কোনোভাবে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর গভীরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকতে পারে বলে বিএনপি আশঙ্কা করছে। বিশেষ করে এই ঘটনার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য কোনো মহল পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছে কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা এখন সময়ের দাবি।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে শতাধিক মানুষের সামনে এ ধরনের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও কাছেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান ছিল, তবুও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিরোধ দেখা যায়নি। এমন রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে—কারা কার স্বার্থে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বা ঘটতে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একাধিক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। কুমিল্লার মুরাদনগরে তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যা, মসজিদের ভেতরে ইমাম খুন, খুলনায় যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান মোল্লাকে গুলি করে হত্যা ও রগ কেটে ফেলার মতো একের পর এক ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব ঘটনার প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া সর্বত্র এক রকম হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অপচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠছে, আর সেই কারণেই মিটফোর্ডের ঘটনায় সত্য উদ্‌ঘাটনের জন্য দলীয় পর্যায়ে তদন্ত কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএনপি মনে করছে, যেকোনো হত্যাকাণ্ডের দায়-দায়িত্ব শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না, এর পেছনে কখনো কখনো ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর পরিকল্পিত চক্রান্তও থাকতে পারে। তাই এই কমিটি কেবল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহই করবে না, প্রয়োজনে প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের সাথেও কথা বলবে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত ফলাফল জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ছিলেন উল্লেখযোগ্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি এই ঘটনায় সরাসরি অনুসন্ধানে নামা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের কথা বলায় দেশের রাজনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে। বিএনপির দাবি, এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হবে।

এখন দেখার বিষয়—বিএনপির গঠিত তদন্ত ও তথ্যানুসন্ধানী কমিটি কত দ্রুত মাঠে নামতে পারে এবং সত্যি সত্যিই মিটফোর্ডের রক্তাক্ত ঘটনার পেছনের সত্য তুলে আনতে পারে কি না। সারা দেশের চোখ এখন সেই রিপোর্টের দিকেই।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত