সর্বশেষ :
সীমান্তে আটক ভারতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক, গ্রহণে অনীহা বিএসএফের চরের ১০ স্কুলে শিক্ষা সংকট, শ্রেণিকক্ষেই মাদকসেবন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন তথ্য উপদেষ্টা রাজধানীতে অভিযান, ডিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি মোশারফ গ্রেফতার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, বাসের চাপায় প্রাণ গেল যুবকের ১২ বছর ধরে অচল একটি সেতু, দুর্ভোগে কুড়িগ্রামের হাজারো মানুষ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত, আশাবাদ সরকারের বোয়ালমারীতে মাদক কারবারির সন্দেহে গণপিটুনি, ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল প্রাইভেটকার এক মাসে চারবার ভূমিকম্প, বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত নাকি স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া? চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে পারে বাংলাদেশ

ইরানে স্বল্প সময়ের জন্য ইন্টারনেট চালু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ বার
ইরানের ইন্টারনেট সীমিত পুনঃচালু

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানে টানা ১০ দিনের ঘনিষ্ঠ ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার পর স্বল্প সময়ের জন্য সীমিত আকারে ইন্টারনেট সেবা চালু হলেও তা আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট গুগল এবং মেসেজিং সেবায় অল্প পরিসরে সংযোগ ফিরে আসে, তবে খুব দ্রুতই ট্রাফিকের মাত্রা আবার নেমে যায়। এই পরিস্থিতি দেশটিতে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেই ঘটেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, ইরান সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখার মাধ্যমে চলমান বিক্ষোভ দমন ও সরকারি বাহিনীর অভিযানের তথ্য লুকাতে চেয়েছে। এএফপি জানায়, জানুয়ারির শুরুতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ৮ জানুয়ারি থেকে এই ব্ল্যাকআউট কার্যকর করা হয়। সেই সময় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে আন্দোলন অনেকটাই স্তিমিত হয়ে আসে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

নেটব্লকস জানায়, রোববার রাতে সীমিত ও কঠোর নিয়ন্ত্রণে কিছু ইন্টারনেট সেবা চালু হলেও তা স্থায়ী হয়নি। ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছু নেটওয়ার্কে হোয়াটসঅ্যাপে সংযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এর আগে আন্তর্জাতিক কল ও এসএমএস সেবাও ধাপে ধাপে চালু করা হয়। তবে স্বল্প সময়ের ইন্টারনেটও সাধারণ জনগণের প্রয়োজনীয় যোগাযোগে যথেষ্ট সহায়ক হয়নি।

একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে “নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে” বলে মন্তব্য করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। জবাব দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে জানিয়েছেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর কোনো হামলা ইরানি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হিসেবে গণ্য হবে। এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যেই ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, দেশটির পরিস্থিতি এখন শান্ত।

এদিকে, এএফপি সংবাদদাতারা তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় সাঁজোয়া যান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর টহলের তথ্য দিয়েছেন। এক সপ্তাহের বন্ধ থাকার পর স্কুলও খুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে জানানো হয়েছে, ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে একই সময়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর ইরানসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, যাচাই করা ভিডিও এবং বর্ণনা থেকে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পেয়েছে। নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, তারা ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বিদেশভিত্তিক বিরোধী চ্যানেল ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ নিহতের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে দাবি করেছে, যদিও স্বাধীনভাবে তা যাচাই করা যায়নি।

ইরানের বিচার বিভাগ গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের দ্রুত বিচার করা হবে বলে জানিয়েছে। সহিংসতার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য মামলাও হতে পারে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, এই মৃত্যুদণ্ডকে বিক্ষোভ দমন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

এই অবস্থার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বিগ্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান সরকার যে প্রক্রিয়ায় তথ্য ও যোগাযোগের স্বাধীনতা সীমিত করছে, তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক অবস্থানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দেশটির তরুণ জনগণ, যারা বিক্ষোভের মূল প্রেরক, তারা এই ধরনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে আরও হতাশার মধ্যে পড়েছে।

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও সীমিত পুনঃচালুয়ের এই ঘটনা ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের চিত্র তুলে ধরছে। নাগরিকদের মৌলিক যোগাযোগের অধিকার সীমিত করা, নিরাপত্তা বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি, এবং বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং গণমাধ্যমের পর্যবেক্ষকরা অব্যাহতভাবে এই পরিস্থিতি মনিটর করছেন।

ইরানের এই কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও জনগণ সীমিতভাবে অনলাইন যোগাযোগের সুযোগ খুঁজছে। যদিও স্বল্প সময়ের ইন্টারনেট সেবা কার্যকর করা হয়েছে, তাতে কার্যকরভাবে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ সেবা প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সমালোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানবাধিকার সংস্থা, নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর ইরানের প্রতি টানা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত