ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন আজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৬ বার
ওবায়দুল কাদের মানবতাবিরোধী মামলা

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় আজ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য রয়েছে। এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল। আদালতের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনালে গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম আসামিদের ব্যক্তিগত দায় এবং মামলার মূল অভিযোগের ওপর আলোকপাত করেন।

শুনানিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ওবায়দুল কাদেরের তিনটি পৃথক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাত আসামির বিরুদ্ধে জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষ আদালতকে জানায়, এসব অভিযোগের প্রমাণ ও তথ্যাদি পর্যাপ্ত এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা প্রয়োজন।

এরপর আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন তাদের আইনজীবী দল, যার নেতৃত্ব দেন লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। তারা দাবি করেন, তাদের মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে কোনো প্রমাণযোগ্য সম্পৃক্ততা নেই। পাশাপাশি যথাযথ তথ্যপ্রমাণের অভাবে আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। উভয়পক্ষের বক্তব্যের পর আদালত অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

এই মামলায় পলাতক অবস্থায় থাকা অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।

গত ৮ জানুয়ারি আসামিদের আত্মসমর্পণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আসামিরা উপস্থিত হননি। পরে পলাতক বিবেচনায় ট্রাইব্যুনাল তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেন। এ ছাড়া ২৯ ডিসেম্বর গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পরিকল্পনা থাকলেও স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কাউকে খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার প্রেক্ষাপট অনুসারে, জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের হত্যার পাশাপাশি উসকানি ও প্ররোচনার মাধ্যমে সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডে মূলভাবে সাত আসামি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।

আইনজীবী ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য আসামিদের পক্ষে বলেন, তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন, কিন্তু কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। আদালত উভয়পক্ষের যুক্তি শুনে অভিযোগ গঠন নিয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। এই মামলার ফলাফলের ওপর দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর নজর থাকবে।

সর্বশেষ, আজ আদালতের আদেশের মাধ্যমে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হলে বিচার কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হবে। এটি হবে দেশের ইতিহাসে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com