সর্বশেষ :
প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ খাতে বরাদ্দ কমায় উদ্বেগ তামাকমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে বাধা হতে পারে প্রস্তাবিত বাজেট: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগে গতি ফিরবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নয়, লাইসেন্স বাতিল হয়েছে প্যাথলজি সেন্টারের: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা খুলনায় গুলিতে নিহত বিএনপি নেতা ঢাকাইয়া রফিক, এলাকায় চাঞ্চল্য বাজেটে ঘাটতি ও ঋণনির্ভরতার ঝুঁকি, সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে জেলা কমিটি বাজেটে সংস্কার দেখছেন না নাহিদ ইসলাম দেশকে সম্মানে ফেরানোর অঙ্গীকার মঈন খানের চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ব্রিতো

জামায়াত কর্মী হত্যায় নিন্দা, বিচার দাবি মামুনুল হকের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮১ বার
জামায়াত কর্মী হত্যার নিন্দা

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শেরপুরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে এক জামায়াত কর্মীকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইসলামী রাজনৈতিক নেতা আল্লামা মামুনুল হক। নির্বাচনী পরিবেশে এমন সহিংসতা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে চতুর্থ দিনের ‘জাগরণী পদযাত্রা’ চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আল্লামা মামুনুল হক এ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, শেরপুরে জামায়াতের একজন কর্মীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। এই ধরনের সহিংসতা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না এবং এটি রাজনৈতিক সহাবস্থানের জন্য অশনিসংকেত।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আমরা কখনোই সহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। মত ও পথের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু তার সমাধান হতে হবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের প্রতি সংযম ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আবেগে নয়, বরং বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের সঙ্গে এগোতে হবে। কোনোভাবেই নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেওয়া যাবে না। তার মতে, সহিংসতা উসকে দিয়ে একটি মহল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সহিংসতা শুধু একটি দল বা গোষ্ঠীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং পুরো জাতির জন্য অশনি সংকেত বয়ে আনে। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আল্লামা মামুনুল হক এ সময় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দৃশ্যমান কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কিংবা অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি, যা নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতারই প্রমাণ। নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ সুরক্ষিত করা, কিন্তু সেই দায়িত্ব তারা যথাযথভাবে পালন করছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির যে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া দরকার ছিল, তা তারা নিচ্ছে না। বরং দলটির কিছু নেতার বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু নেতৃবৃন্দ নারীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও অসভ্য ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে নারীদের বিবস্ত্র করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা সভ্যতা ও মানবিকতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, নেতাদের এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের সরাসরি প্রভাব মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর পড়ছে। এর ফলে সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে বলে তিনি মনে করেন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণই পারে এমন পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

একই সময়ে নিজের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তোলা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন আল্লামা মামুনুল হক। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘনের যে অভিযোগ করেছেন, তা প্রমাণ করে যে তিনি নির্বাচনী বিধিমালা সম্পর্কে অবগত নন বা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচনী আচরণবিধিতে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে রঙিন বিলবোর্ড টানানোর সুযোগ রয়েছে এবং তিনি সেই নিয়ম মেনেই বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন। শুধু তিনি নন, অন্যান্য প্রার্থীরাও একইভাবে বিলবোর্ড ব্যবহার করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ববি হাজ্জাজ নিজেও একইভাবে বিলবোর্ড টানিয়েছেন।

আল্লামা মামুনুল হক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আচরণবিধিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে তিনি একটি বিলবোর্ডও বেশি লাগিয়েছেন, তবে তিনি নিজ উদ্যোগে সব বিলবোর্ড নামিয়ে ফেলবেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রকাশ্যেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘোষণা দিয়েছেন।

তার দাবি অনুযায়ী, অল্প কিছু এলাকাতেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ২৬টির মতো বিলবোর্ড দেখেছেন এবং তার ধারণা, মোট সংখ্যা ৫০-এরও বেশি হতে পারে। এছাড়াও আরও বিভিন্নভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এসব কর্মকাণ্ডকে তিনি আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও ধৃষ্টতার প্রকাশ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, এখন দেখার বিষয় নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়। কমিশনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত কর্মী হত্যাকাণ্ড, নির্বাচনী সহিংসতা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে নির্বাচনী রাজনীতি এক জটিল ও স্পর্শকাতর পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম, প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় অবস্থানই পারে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত