অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বিশ্বব্যাংকের আস্থা: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জুটের সৌজন্য সাক্ষাৎ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ১২৮ বার
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক নবনিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার রাজধানীর যমুনা সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে বাংলাদেশে চলমান অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিশ্বব্যাংকের দৃঢ় সমর্থন ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে জুট বাংলাদেশের আর্থিক খাতে পরিচালিত সংস্কার এজেন্ডা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে নেওয়া বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আমরা সম্মান করি এবং এই যাত্রায় অংশীদার হিসেবে থাকতে চাই। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে একে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে গেছে, তা এক অনন্য দৃষ্টান্ত।”

এ সময় বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের নবনিযুক্ত বিভাগীয় পরিচালক জিন পেসমে জুট তার পূর্ববর্তী মেয়াদের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশের প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ভালোবাসা এবং আস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন দেশ যেন ভূমিকম্পের পর বিধ্বস্ত এক অঞ্চল। আমাদের হাতে ছিল না পূর্ব অভিজ্ঞতা, ছিল না কাঠামোগত স্থিতি। কিন্তু তখন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীরা। এই সহায়তা আমাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে, সংকট মোকাবেলায় সাহস জুগিয়েছে।”

এ সময় তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন ২০২৪ সালের জুলাই বিদ্রোহে জীবন উৎসর্গকারী তরুণদের কথা। তিনি বলেন, “তরুণরা এই দেশকে একটি নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছে। তারা শুধু প্রতিবাদ করেনি, তারা একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের বীজ রোপণ করেছে। তাদের ত্যাগ বৃথা যাবে না।”

তিনি নারীদের অবদানের কথাও তুলে ধরে বলেন, “জুলাই মাসে আমরা নারী দিবস পালন করছি। গত বছরের অভ্যুত্থানে নারীদের সাহসী ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। আমাদের দেশের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তরুণ সমাজ, তাদের স্বপ্নের সঙ্গে আমাদের নীতি ও কর্মপ্রচেষ্টা সংগতিপূর্ণ করতে হবে।”

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশকে শুধু ভৌগোলিক মানচিত্রের সীমায় নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক হৃদপিণ্ড হিসেবে দেখতে হবে। আমরা যদি নিজেকে বাকি অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন রাখি, তবে আমরা একা সামনের দিকে এগোতে পারব না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং সমুদ্রসম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে আমাদের সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করা সম্ভব।”

বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষাখাতে ড. ইউনূসের আগ্রহের প্রশংসা করে বলেন, “বাংলাদেশে আমরা ইতোমধ্যেই মেয়েশিশুদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তির একটি আদর্শ কর্মসূচি চালু করেছি, যা এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশেও অনুকরণীয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নারী ও তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যেতে প্রস্তুত।”

তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাংক গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়ন করেছে এবং আগামী তিন বছরেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সংস্কার প্রচেষ্টাকে বিশ্বব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক দুইপক্ষের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি একটি সুসংহত এবং অংশগ্রহণমূলক পথে এগিয়ে যাচ্ছে—এমন বার্তাই যেন উঠে এসেছে এ আলোচনায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com