নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন প্রধান সিইসি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৬ বার
নবনির্বাচিত এমপি শপথ প্রক্রিয়া

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয় পদ শূন্য থাকায় সংবিধানের বিধান অনুসারে এই দায়িত্বটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হাতে আসে। সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সূত্রের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে, নির্বাচনি ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদায়ী স্পিকার নতুন এমপিদের শপথ করাবেন। যদি স্পিকার অনুপস্থিত থাকেন, ১৪৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর মনোনীত কেউ শপথ করাতে পারবেন। তবে গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ না হলে, ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকারও দায়িত্বে নেই। তাই এবার এই দায়িত্ব সম্পূর্ণ সংবিধান অনুযায়ী সিইসির হাতে এসেছে।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, নির্বাচিত এমপিদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া সংবিধানের তফসিল-৩ অনুযায়ী, যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার না থাকেন, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারেন। আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর সর্বোচ্চ তিনদিনের মধ্যে নতুন এমপিদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে। সংসদ গঠনের পূর্বেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক।

সংসদ সচিবালয় ইতিমধ্যেই শপথ কক্ষ ও সংসদ অধিবেশন কক্ষের সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের আগে নবনির্বাচিত সদস্যদের বরণে শপথ গ্রহণের সব আয়োজন সম্পন্ন হবে। সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র লেজিসলেটিভ ড্রাফট এমএম ফজলুর রহমান বলেন, সরকার পর্যায়ে নতুনদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনি গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে হবে। তাই সবকিছু বিবেচনা করে সংসদ সচিবালয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনও সক্রিয় অবস্থান নিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আবদুল রহমানেল মাছউদ বলেন, সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে—স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। তিনি আরও জানান, এখনো কোনো বার্তা আসেনি, তবে রেওয়াজ অনুযায়ী সিইসি শপথ করাবেন, এটি নিশ্চিত।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ সচিবালয় ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সময় এলে সব তথ্য প্রকাশ করা হবে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংসদ না থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা রক্ষায় সংবিধানে বিকল্প পথ রাখা হয়েছে। স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সিইসির মাধ্যমে শপথ নেওয়া পুরোপুরি বৈধ। শপথ গ্রহণ বিলম্বিত হলে সংসদের বৈধতা ও কার্যক্রম শুরু নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এবারের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া তাই শুধু সংবিধান অনুযায়ী নয়, একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা রক্ষার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পরই বৈধভাবে সংসদ কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। সংবিধান অনুযায়ী সঠিক সময়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাংলাদেশের সাংবিধানিক নিয়মের প্রতি রাষ্ট্র ও সরকারের দায়বদ্ধতা প্রকাশ করে।

সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে যথাযথভাবে আয়োজন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনুষ্ঠানের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিভাগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক দল ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে। নবনির্বাচিত এমপিরা শপথ গ্রহণের পরই সরকারি ও সাংবিধানিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত