প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আফগানিস্তানের সামরিক হামলার পর পাকিস্তানের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’কে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচের সঙ্গে আলোচনার পর এই সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। তিনি আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। হুকারের বক্তব্যে বলা হয়েছে, তালেবানের হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে পূর্ণ সমর্থন জানানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূমিকাকে প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো এবং তিনি দুই নেতাকে সম্মান করেন। ট্রাম্পের মতে, পাকিস্তান এখন ‘অসাধারণভাবে ভালো করছে’।
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত গত সপ্তাহে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের সামরিক অভিযান ও আফগান বাহিনীর পাল্টা হামলায় দুই দেশের সীমান্তে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ দাবি করছে, আফগানিস্তানের হামলায় অন্তত ২৯৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ৮৯টি সেনা চৌকি, ১৩৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে। আফগান পক্ষও দাবি করেছে, তাদের হামলায় পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ১৯টি সেনা চৌকি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের দাবির নিরপেক্ষ যাচাই এখনও হয়নি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আফগানিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তালেবান সরকারের যেকোনো আগ্রাসন “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুযায়ী মোকাবিলা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী সবসময় দেশের সুরক্ষায় প্রস্তুত। অন্যদিকে, আফগান সেনাপ্রধান ফসিউদ্দিন ফিতরাত জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যে কোনো হামলার ক্ষেত্রে পাকিস্তান “আরও শক্তিশালী, দৃঢ় ও কার্যকর” প্রতিক্রিয়া পাবে।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সীমান্তে উত্তেজনা, মানবিক ক্ষয়ক্ষতি এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের দিকে গভীর নজর রেখেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত শুধু দুই দেশের নিরাপত্তা-রাজনীতি নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। দু’পক্ষই নিজেদের সমর্থক এবং মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন, যা উত্তেজনাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে।
পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে চলমান এই সামরিক উত্তেজনা, বিশেষ করে তালেবান ও পাকিস্তানি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি অভিযানের কারণে সাধারণ জনগণের জীবন ও সুরক্ষা ঝুঁকিতে পড়েছে। এসময় দুই দেশের সরকারকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা ত্বরান্বিত করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত সমর্থন পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। হুকারের বার্তা এবং ট্রাম্পের প্রশংসা পাকিস্তানের নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিকভাবে রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে আস্থা জোগাচ্ছে। একই সঙ্গে, আফগানিস্তানকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, যাতে সীমান্তে যে কোনো ধরনের হামলা পাক-আফগান সম্পর্কের জন্য গুরুতর ফলাফল বয়ে আনে।
এই সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কেন্দ্রিত হয়েছে। পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ কৌশল, আফগান সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং সামরিক অভিযানের ফলাফল আগামী দিনে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।