কৃষি উন্নয়নে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব: কৃষিমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ১১ বার
কৃষি উন্নয়নে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব: মন্ত্রী

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ জানিয়েছেন, কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এটি জাতীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপি কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিল, যা দেশের কৃষি খাতের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।

সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, তার মাঠ এবং খামারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা তাঁকে কৃষির বাস্তব সমস্যা বুঝতে সাহায্য করেছে। তিনি স্মরণ করেন, বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্টের (বার্ড)-এর জনক ড. আখতার হামিদ খান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃষকরা কীভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেন তা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেখাতেন। সেই সময় থেকেই কৃষির আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ও পরিকল্পনা গড়ে ওঠে।

মন্ত্রী আরও বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষি কার্ড চালু করা হবে। বর্তমানে দেশে কৃষকদের সঠিক এবং সমন্বিত তথ্যভাণ্ডারের অভাব রয়েছে। কৃষি কার্ড চালু হলে কৃষকদের প্রকৃত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে এবং সরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যাবে। তিনি জানান, দেশে বিপুল পরিমাণ ঘাস উৎপাদন সত্ত্বেও পশুখাদ্যের দাম কেন বেশি, তা খতিয়ে দেখা হবে। মাঠ পর্যায়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান গ্রহণ করা হবে, যাতে খামারিরা ন্যায্য দামে পশুখাদ্য পেতে পারেন এবং উৎপাদন ব্যয় কমে আসে।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী ও টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কৃষি খাতের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তা দিতে সরকার ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করেছে, যা তাদের আর্থিক চাপ কমিয়ে উৎপাদনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।

কর্মশালায় প্রাণিসম্পদ সেবা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে সারা দেশে মোট ৪৭৫টি এমভিসি (মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক) ক্রয় করা হয়েছে। এসব এমভিসি উপজেলায় প্রাণিসম্পদ দপ্তরে প্রাণী-চিকিৎসা সেবা প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারিরাও দ্রুত চিকিৎসা ও পরামর্শ পাচ্ছেন। এছাড়া এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় লাইভস্টক ফার্মার্স ফিল্ড স্কুল, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, টিকাদান, রোগ নজরদারি, কৃত্রিম প্রজনন এবং খামারি প্রোফাইলিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে ব্যাংক হিসাব খোলা ও সমবায় সঞ্চয়ের মাধ্যমে খামারিদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১৩৫টি ওয়েট মার্কেট নির্মাণ ও হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৩টি জেলা শহরে আধুনিক জেলা কসাইখানা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, যা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের সভাপতিত্ব করেন। প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামাল। স্বাগত বক্তব্য ও মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ বলেন, কৃষির উন্নয়ন কেবল খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তিনি কৃষকদের জন্য সঠিক তথ্য, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগকে আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত