সর্বশেষ :
কেনিয়ায় ভয়াবহ বৃষ্টি-বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ যশোরে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রশিক্ষণ বিমানের জরুরি অবতরণ লেবাননে হামলায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ: এইচআরডব্লিউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নিরাপত্তা ও সামরিক দক্ষতায় মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন নেতা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ নিহত ঈদে নতুন নোট নেই, খোলা বাজারে দাম দাড়িয়েছে আকাশছোঁয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিদ্যুৎ-জ্বালানি বাজারে প্রভাব ছড়াচ্ছে হাদি হত্যার আসল খুনি নিয়ে প্রকাশ্যে সালাহউদ্দিন আম্মার মত আজ থেকে বন্ধ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগে

যুদ্ধের প্রভাবে ব্যাংক খাত সংকটে পড়তে পারে: আব্বাস

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৮৬ বার
ব্যাংক খাত সংকটে পড়তে পারে

প্রকাশ: ০৮ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যাংক খাত সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ইরানের বিপক্ষে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে দেশের ব্যাংকিং খাত পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই ধরনের বৈশ্বিক সংকট বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ কতদিন চলবে বা কখন শেষ হবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্যশস্য এবং বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে করে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

তার মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটলে আমদানি ও রফতানি কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই যদি বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্য কার্যক্রম ব্যাহত হয়, তাহলে দেশের ব্যাংকিং খাতও এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না।

মির্জা আব্বাস বলেন, আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে বা ধীরগতির হয়ে পড়লে ব্যাংকিং খাতে লেনদেন কমে যেতে পারে। এর ফলে ব্যাংক খাত সংকটে পড়তে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষও এমন পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে পারে। পণ্যের দাম বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রসঙ্গও উঠে আসে মির্জা আব্বাসের বক্তব্যে। তিনি অভিযোগ করেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যাচার করছে। তার মতে, এসব অভিযোগ কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে এবং এগুলো আন্তর্জাতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও নিন্দনীয়।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক বিষয়, কিন্তু মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে প্রতিপক্ষকে হেয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকতে পারে, তবে তা যেন শালীনতা ও সত্যের ভিত্তিতে হয়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় কেউ কেউ দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করছে বলে তার ধারণা। তার মতে, ক্ষমতার রাজনীতির কারণে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, বর্তমানে দেশ বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা বহন করছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে তা দেশের অর্থনীতিকে আরও কঠিন অবস্থার মুখে ঠেলে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা অনেক সময় দূরবর্তী দেশগুলোর অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে জ্বালানি ও বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতিগুলো এমন পরিস্থিতিতে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। ফলে আন্তর্জাতিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর পড়তে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি গত কয়েক বছরে বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। করোনা মহামারি, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনো বৈশ্বিক সংঘাত সৃষ্টি হলে তা অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাণিজ্য অর্থায়ন, শিল্প বিনিয়োগ এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এলে তার প্রভাব ব্যাংকিং ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে।

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। রমজান মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা সমাজে শান্তি, সহমর্মিতা এবং নৈতিক মূল্যবোধ জোরদার করার আহ্বান জানান।

মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের চলমান উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত হবে এবং বিশ্বে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সতর্ক ও দূরদর্শী নীতির প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত