সর্বশেষ :
চট্টগ্রামে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা মামলায় আসামি ১৯ জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা অপ্রতুল, যা ইতিহাসের প্রতি অবিচার: ফখরুল শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু : শিক্ষামন্ত্রী স্পেনকে রুখে দেওয়া ভোজিনহার এক রাতেই ফলোয়ার ৫৭ লাখ! ‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে : আশিক চৌধুরী তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: ডা. জাহেদ উর রহমান সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের

রাজধানীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির পক্ষে আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করতে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে আদালত এ নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার সময় এ আদেশ দেন। আদালত বলেন, মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর মামলায় আসামিদের আইনগত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা বিচারব্যবস্থার একটি মৌলিক নীতি। ফলে তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করা প্রয়োজন।

আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের কথাও বলা হয়।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আসামিপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ শাস্তির ক্ষেত্রে আদালত সাধারণত আরও বেশি সতর্কতার সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থাকে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে আলোচিত এই মামলায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দুই আসামির বিরুদ্ধে বিচারকার্য সম্পন্ন হয়। বিচার শেষে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রায়ের অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্র জানায়, নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানি বাধ্যতামূলক। এ সময় আদালত মামলার সব তথ্য-প্রমাণ, সাক্ষ্য, যুক্তি এবং বিচারিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যও শোনা হয়।

হাইকোর্টের নির্দেশনার পর এখন রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী আসামিদের পক্ষে আইনি যুক্তি উপস্থাপন করবেন। এতে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আরও পরিপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় রাষ্ট্রপক্ষও বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। শিশু নির্যাতন ও নারী-শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আইনবিদদের মতে, কোনো অপরাধ যতই নৃশংস হোক না কেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনের সব ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক। কারণ ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি হলো অভিযুক্ত ব্যক্তি যেন আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ পান। আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশ সেই নীতিরই প্রতিফলন।

মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও বলছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয় আইনগত সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এতে আদালতের চূড়ান্ত রায় নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন বা বিতর্কের সুযোগ কমে আসে।

অন্যদিকে রামিসার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং ভুক্তভোগী পরিবার কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পাবে।

শিশু অধিকারকর্মীরাও মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা বলছেন, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও যৌন অপরাধের ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর বিচার অপরিহার্য। একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ার সব আইনি শর্ত পূরণ করাও প্রয়োজন।

হাইকোর্টের নির্দেশনার ফলে মামলার পরবর্তী শুনানির পথ আরও সুগম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের পর মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মামলায় আদালতের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কারণ একদিকে রয়েছে একটি নিষ্ঠুর অপরাধের বিচার, অন্যদিকে রয়েছে সংবিধান ও আইনের আওতায় অভিযুক্তদের ন্যায্য আইনি অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়।

বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টের বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা ও শুনানির ওপর নির্ভর করবে মামলার ভবিষ্যৎ অগ্রগতি। তবে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত