সর্বশেষ :
চট্টগ্রামে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা মামলায় আসামি ১৯ জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা অপ্রতুল, যা ইতিহাসের প্রতি অবিচার: ফখরুল শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু : শিক্ষামন্ত্রী স্পেনকে রুখে দেওয়া ভোজিনহার এক রাতেই ফলোয়ার ৫৭ লাখ! ‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে : আশিক চৌধুরী তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: ডা. জাহেদ উর রহমান সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে

সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ২ বার

সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলা হয়। রাষ্ট্র, সরকার, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন কিংবা ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। তাই সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা এবং জনস্বার্থ। সরকারের প্রশংসা কিংবা বিরোধিতার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তবতাকে নিরপেক্ষভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা—এমন মন্তব্য করেছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য কখনোই কোনো সরকার বা গোষ্ঠীর তোষামোদ করা নয়। একইভাবে উদ্দেশ্যহীন সমালোচনাও পেশাদার সাংবাদিকতার অংশ হতে পারে না। গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো তথ্য যাচাই করে সত্য ঘটনাকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে উপস্থাপন করা।

বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যম সরকারের সাফল্য যেমন তুলে ধরবে, তেমনি ব্যর্থতা, অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা জনদুর্ভোগের বিষয়গুলোও নির্ভয়ে প্রকাশ করবে। কারণ জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করাই সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তাদের মতে, সাংবাদিকতা যদি কোনো রাজনৈতিক অবস্থান, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অর্থনৈতিক প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করে, তাহলে গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি জবাবদিহিতার সংস্কৃতিও দুর্বল হয়ে পড়ে।

আলোচনায় অংশ নেওয়া গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা বলেন, আধুনিক বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের কারণে সংবাদ পরিবেশনের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। যাচাইবিহীন তথ্য প্রকাশের পরিবর্তে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদ পরিবেশন করা এখন সময়ের দাবি।

তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অনেক সময় গুজব ও অসম্পূর্ণ তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এসব পরিস্থিতিতে মূলধারার গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো নির্ভরযোগ্য তথ্যের মাধ্যমে জনগণকে সঠিক বার্তা দেওয়া। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পেশাগত নীতি, তথ্যসূত্র যাচাই এবং ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, অবকাঠামো প্রকল্প, অর্থনৈতিক অগ্রগতি কিংবা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে জনগণকে জানানো যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি, অনিয়ম বা অপচয়ের তথ্যও সামনে আনা জরুরি। গণমাধ্যম যদি কেবল ইতিবাচক বা কেবল নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করে, তাহলে বাস্তব চিত্র জনগণের কাছে পৌঁছায় না।

গণমাধ্যম গবেষকদের মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং দায়িত্বশীলতা একে অপরের পরিপূরক। স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না থাকলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয়। আবার দায়িত্ববোধের অভাবে স্বাধীনতা অপব্যবহারের ঝুঁকিও থাকে। তাই উভয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন।

আলোচনায় উঠে আসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং পেশাগত স্বাধীনতার বিষয়টিও। বক্তারা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে সাংবাদিকরা চাপ, হুমকি কিংবা হয়রানির শিকার হন। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়। সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যাতে তারা নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

তারা আরও বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক মেরুকরণের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে দলীয় অবস্থানের পরিবর্তে তথ্য ও প্রমাণকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবেই গণমাধ্যম প্রকৃত অর্থে জনস্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, যখনই সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে সত্য তুলে ধরতে পেরেছে, তখনই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রকাশ করা কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। এই বিশ্বাসযোগ্যতা একদিনে তৈরি হয় না; বরং দীর্ঘ সময় ধরে সততা, পেশাদারিত্ব এবং বস্তুনিষ্ঠতার মাধ্যমে তা অর্জিত হয়। তাই কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা স্বার্থান্বেষী অবস্থান গণমাধ্যমের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা মনে করেন, সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের যেমন সাহসী হতে হবে, তেমনি দায়িত্বশীলও হতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার বক্তব্য নেওয়া, তথ্য যাচাই করা এবং আইনি ও নৈতিক সীমারেখা মেনে সংবাদ প্রকাশ করা পেশাগত দায়িত্বের অংশ।

সভায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, সংবাদমাধ্যমের কাজ সরকারকে খুশি করা নয়, আবার অকারণে বিরোধিতাও নয়। জনগণের পক্ষে থেকে তথ্যভিত্তিক বাস্তবতা তুলে ধরা এবং জনস্বার্থ রক্ষা করাই সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। গণমাধ্যম যত বেশি সত্যনিষ্ঠ ও স্বাধীন হবে, গণতন্ত্রও তত বেশি শক্তিশালী হবে।

তাদের ভাষায়, একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমই পারে জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি করতে। আর সেই পথের মূল ভিত্তি হলো সত্যকে সত্য হিসেবে এবং মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত