সর্বশেষ :
চট্টগ্রামে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা মামলায় আসামি ১৯ জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা অপ্রতুল, যা ইতিহাসের প্রতি অবিচার: ফখরুল শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু : শিক্ষামন্ত্রী স্পেনকে রুখে দেওয়া ভোজিনহার এক রাতেই ফলোয়ার ৫৭ লাখ! ‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে : আশিক চৌধুরী তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: ডা. জাহেদ উর রহমান সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে

তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: ডা. জাহেদ উর রহমান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার

তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: ডা. জাহেদ উর রহমান

ভারতে অবস্থানকালে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, তার এই প্রত্যাবর্তন কোনো পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং পরিস্থিতির প্রতি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত অবস্থান স্পষ্ট করার অংশ হিসেবেই তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

সম্প্রতি এক প্রতিক্রিয়ায় ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, একজন সচেতন নাগরিক ও শিক্ষাবিদ হিসেবে তিনি মনে করেন, সম্মান, মর্যাদা এবং ন্যায্য আচরণের প্রশ্নে আপস করার সুযোগ নেই। তাই সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর তিনি আর সেখানে অবস্থান না করে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন।

তিনি বলেন, “আমি যেটা করেছি, সেটি মূলত একটি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ। পরিস্থিতি যেভাবে তৈরি হয়েছিল, তাতে আমার কাছে মনে হয়েছে নীরব থাকা ঠিক হবে না। নিজের অবস্থান জানাতেই আমি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

ডা. জাহেদ উর রহমানের এই বক্তব্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষাঙ্গন এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তার সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন।

শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যেকোনো ধরনের পেশাগত বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ওপর নির্ভর করে। কোনো ব্যক্তি যদি মনে করেন তার মর্যাদা বা অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে, তাহলে তিনি প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রাখেন। ডা. জাহেদ উর রহমানের সিদ্ধান্তও সেই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

একই সঙ্গে বিষয়টি প্রতিবাদের সংস্কৃতি নিয়েও নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবাদ সবসময় বড় কর্মসূচি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে হতে হবে এমন নয়। অনেক সময় ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও শক্তিশালী বার্তা বহন করতে পারে। কোনো অবস্থার সঙ্গে একমত না হলে সেখান থেকে সরে আসা কিংবা নিজের অবস্থান প্রকাশ করাও প্রতিবাদের একটি বৈধ রূপ।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে ব্যক্তি মর্যাদা, পেশাগত স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি মনে করেন, এসব মূল্যবোধের প্রশ্নে প্রত্যেকেরই সুস্পষ্ট অবস্থান থাকা প্রয়োজন।

তার ভাষায়, “প্রত্যেক মানুষেরই কিছু নৈতিক সীমারেখা থাকে। সেই সীমারেখা অতিক্রম করা হয়েছে বলে মনে হলে প্রতিবাদ জানানো স্বাভাবিক। আমি সেটাই করেছি।”

তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, তার এই পদক্ষেপ কোনো ব্যক্তি বা জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। বরং এটি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও ঘটনার প্রতি ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া। তিনি বিশ্বাস করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখেই মতপার্থক্য বা অসন্তোষ প্রকাশ করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট মহলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে একাডেমিক এবং পেশাগত যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আন্তঃদেশীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার গুরুত্বও বেড়েছে।

শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে গেলে অনেক সময় সাংস্কৃতিক, প্রশাসনিক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংলাপ ও বোঝাপড়ার প্রয়োজন থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে প্রতিবাদের সিদ্ধান্তও দেখা যায়।

ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার অবস্থানকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ব্যক্তি মর্যাদা ও নীতিগত অবস্থান রক্ষার ক্ষেত্রে আপস না করার বার্তা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, ঘটনার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট সামনে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। তারা বলছেন, যেকোনো ঘটনার মূল্যায়নের আগে সব পক্ষের বক্তব্য জানা জরুরি।

এদিকে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরাও এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। তাদের মতে, ব্যক্তি পর্যায়ে প্রতিবাদ জানানো গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। তবে একই সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বর্তমান সময়ে ব্যক্তি অবস্থান ও মূল্যবোধের প্রশ্নে মানুষের সচেতনতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ফলে কোনো ঘটনা বা আচরণকে অসম্মানজনক মনে হলে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে দ্বিধা করেন না। ডা. জাহেদ উর রহমানের সিদ্ধান্ত সেই প্রবণতারই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ যে আগ্রহ নিয়ে বিষয়টি দেখছেন, তা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি চান, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকুক ব্যক্তি মর্যাদা, ন্যায্যতা এবং পারস্পরিক সম্মানের মতো মৌলিক মূল্যবোধ।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল একজন ব্যক্তির সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সম্মান, প্রতিবাদ এবং নৈতিক অবস্থান নিয়ে বৃহত্তর সামাজিক আলোচনারও জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও তথ্য সামনে এলে আলোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত