সর্বশেষ :
কেনিয়ায় ভয়াবহ বৃষ্টি-বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ যশোরে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রশিক্ষণ বিমানের জরুরি অবতরণ লেবাননে হামলায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ: এইচআরডব্লিউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নিরাপত্তা ও সামরিক দক্ষতায় মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন নেতা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ নিহত ঈদে নতুন নোট নেই, খোলা বাজারে দাম দাড়িয়েছে আকাশছোঁয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিদ্যুৎ-জ্বালানি বাজারে প্রভাব ছড়াচ্ছে হাদি হত্যার আসল খুনি নিয়ে প্রকাশ্যে সালাহউদ্দিন আম্মার মত আজ থেকে বন্ধ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগে

রাজধানীতে ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ১৫ বার
ফ্যামিলি কার্ড নগদ সহায়তা কার্যক্রম

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ মার্চ) থেকে দেশে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে করা হবে। কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত সুবিধাভোগীরা একই দিনই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রথম মাসের নগদ সহায়তা পাবেন। এটি একটি নির্বাচন পূর্ব প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দরিদ্র ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে রাজধানীর কড়াইল এলাকায় এই কার্যক্রম চালু হবে। সেখানে বস্তির নারীরা এই কার্ড হাতে পেয়ে নগদ সহায়তা গ্রহণ করবেন। ওই দিন অর্থ মন্ত্রণালয়েও একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী চট্টগ্রামে এবং বাণিজ্যমন্ত্রী সুনামগঞ্জে কার্যক্রম উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন। এটি সরকারিভাবে এই প্রাথমিক উদ্যোগের গুরুত্ব প্রদর্শনের পাশাপাশি সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তার সময়মতো পৌঁছানোর নিশ্চয়তা দেবে।

পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমের আওতায় রাজধানীর কড়াইল বস্তি ছাড়াও সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল বা শাহ আলীর ওয়ার্ড-৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি ওয়ার্ড-১৪ এবং বাগানবাড়ি বস্তি এলাকায় কার্ড বিতরণ করা হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জেও এই কার্যক্রম চালু হবে। এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আওতায় প্রাথমিকভাবে ১৪ উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে কার্ড বিতরণ করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড ধারকরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা পাবেন। অর্থমন্ত্রী এই প্রকল্পের জন্য ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন, যা কার্যক্রমের তদারকি ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। কমিটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সুবিধাভোগীদের দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সমাধান করা।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা সরাসরি সুবিধাভোগীর হাতে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। এটি সরকারের সামাজিক সুরক্ষা নীতির অংশ হিসেবে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কার্ডধারীরা নগদ সহায়তার মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন জীবনের অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণে সহায়তা পাবেন। এটি পরিবারকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পাইলট কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত অঞ্চলে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের পরিবারগুলো এই কার্ডের মাধ্যমে নিয়মিত নগদ সহায়তা পাবেন। এছাড়া নগদ সহায়তার মাধ্যমে পরিবারগুলো তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।

প্রকল্পের মাধ্যমে নগদ সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহৃত হবে। এতে সময়মতো এবং নিরাপদভাবে সুবিধাভোগীর কাছে অর্থ পৌঁছানো সম্ভব হবে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কার্ড বিতরণ ও নগদ লেনদেনের প্রতিটি ধাপ ডিজিটালভাবে নজরদারি করা হবে, যাতে দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ কমে।

সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারী সদস্যরা সরাসরি সহায়তা পাবেন, যা তাদের আত্মনির্ভরতা ও ক্ষমতায়ন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে বস্তি ও পিছিয়ে পড়া এলাকায় এই প্রাথমিক সহায়তা সামাজিকভাবে সুস্থিতি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অবদান রাখবে।

রাজধানীর কড়াইল এলাকায় উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে এই কার্যক্রম দেশের অন্যান্য নির্বাচিত এলাকায় সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ দেশের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো হবে। এটি সরকারের একটি মূল সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।

পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন সরকারের সামাজিক নীতি, দক্ষ প্রশাসন এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোকে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এটি একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে দেশের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত