সর্বশেষ :
জনগণের কল্যাণে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান এমরান সালেহ প্রিন্সের নোয়াখালীতে মাদকের প্রতিবাদে স্কুলছাত্র খুন, এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক তিস্তার পানি বাড়ছে, লালমনিরহাটে বন্যার শঙ্কা মাস্কের প্রতিষ্ঠানে শেয়ার বোনাস, ৪ হাজার ৪০০ কর্মী হচ্ছেন মিলিয়নেয়ার বিশ্বজুড়ে প্রতি ৭০ জনে ১ জন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত: ইউএনএইচসিআর এনসিটি ইস্যুতে নীরব আন্দোলনকারীরা, প্রশ্ন বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্তিত্ব রক্ষায় কংগ্রেসের শরণাপন্ন মমতা, বদলাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী ইউরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রেও পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা, আয় কমল ১৭ শতাংশ প্রথম সরকারি সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন তারেক রহমান

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ঝরছে প্রাণ, বাড়ছে উদ্বেগ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ২ বার
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দুর্ঘটনা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই মহাসড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল চলাচল করে এই পথে। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই মহাসড়ক এখন প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার জন্য আলোচনায় আসছে। একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। প্রায়ই দেখা যায়, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, ক্লান্ত চালকের গাড়ি চালানো, যানবাহনের ত্রুটি এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় শুধু প্রাণহানিই নয়, বহু মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করছেন এবং অসংখ্য পরিবার আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ভারী যানবাহন চলাচল করে। পণ্য পরিবহনের চাপের পাশাপাশি যাত্রীবাহী যানবাহনের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। ফলে যানবাহনের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার কারণে সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ চার লেন ও ছয় লেনে উন্নীত করা হলেও দুর্ঘটনার হার প্রত্যাশিতভাবে কমেনি। বরং প্রশস্ত সড়কে অনেক চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা দেখান। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত অবকাঠামোর পাশাপাশি চালকদের সচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, লাইসেন্সবিহীন চালক এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এত বড় সড়ক নেটওয়ার্কে সার্বক্ষণিক নজরদারি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

সড়ক ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, অনেক স্থানে এখনও অনিয়ন্ত্রিত ইউ-টার্ন, অবৈধ পারাপার এবং মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা বাজার বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং কিছু এলাকায় পথচারীদের অসচেতনতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা এখন দেশের অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা। দুর্ঘটনায় নিহতদের একটি বড় অংশ কর্মক্ষম বয়সী মানুষ। ফলে একটি দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের জীবনই কেড়ে নেয় না, বরং একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও নড়বড়ে করে দেয়।

নিহতদের স্বজনদের অনেকেই অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা সুবিধা না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যায়। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জরুরি চিকিৎসা ও উদ্ধারসেবা আরও শক্তিশালী করার দাবি জানানো হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। চালকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

পরিবহন খাতের বিশ্লেষকরা মনে করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। তাই এই সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা শুধু পরিবহন ব্যবস্থার বিষয় নয়, বরং জাতীয় উন্নয়ন ও জননিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। দুর্ঘটনা কমাতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনাকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। আধুনিক প্রযুক্তি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে এই ক্ষেত্রে সফল হয়েছে, বাংলাদেশও সেই পথে এগোতে পারে।

সব মিলিয়ে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বারবার প্রাণহানির ঘটনা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে হারিয়ে যাচ্ছে একটি জীবন, একটি স্বপ্ন এবং একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ। তাই সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই মহাসড়কে প্রাণহানির মিছিল থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত