শাহজালালে ১১ কেজি গাঁজাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার
শাহজালালে ১১ কেজি গাঁজাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাদক পাচারবিরোধী অভিযানে প্রায় ১২ কেজি উন্নত জাতের গাঁজা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় মো. জুলফিকার মোল্লা (৩৩) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার করে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমনী হলের গ্রীন চ্যানেলে নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অংশ নেয়। দুপুর দেড়টার দিকে ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইট নম্বর TG321-এ ঢাকায় আসা ভারতীয় নাগরিক মো. জুলফিকার মোল্লার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

পরবর্তীতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, উপস্থিত সাক্ষী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তার ট্রাভেল ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় ব্যাগের ভেতরে কাপড়ের নিচে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২১টি পৃথক পলি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেট খুলে পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলোতে উন্নত জাতের গাঁজা রাখা হয়েছে। জব্দ করা গাঁজার মোট ওজন ১১ কেজি ৮০০ গ্রাম।

মাদকদ্রব্য ছাড়াও অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট, থাই এয়ারওয়েজের বোর্ডিং কার্ড এবং জিও ইন্ডিয়ার সিম ব্যবহৃত একটি ওপ্পো স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। এসব আলামত তদন্তের স্বার্থে জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়া অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ গতিবিধি শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের তৎপরতার সমন্বয়ে মাদক পাচারের নতুন কৌশল প্রতিরোধে কাজ করছে ডিএনসি।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মো. জুলফিকার মোল্লা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজারহাট থানার বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বাংলাদেশে দুই থেকে তিন দিন অবস্থান করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে তার সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য, এই বিপুল পরিমাণ গাঁজার সম্ভাব্য গন্তব্য এবং এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো মাদক চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে মাদক পাচারের চেষ্টা হয়ে থাকে। কখনো যাত্রীদের লাগেজে, কখনো কুরিয়ার বা কার্গোর মাধ্যমে, আবার কখনো অভিনব কৌশলে নিষিদ্ধ মাদক বহনের চেষ্টা করে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো। এসব অপরাধ দমনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়ানো হচ্ছে।

ডিএনসি জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন। মামলার তদন্তে উদ্ধার হওয়া আলামত, মোবাইল ফোনের তথ্য, ভ্রমণ ইতিহাস এবং সম্ভাব্য যোগাযোগের সূত্রগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা করে থাকে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তি এককভাবে কাজ করেছেন নাকি বড় কোনো নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিদেশি সংস্থার সঙ্গেও তথ্য আদান-প্রদান করা হতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে মাদক পাচারের প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও জটিল হয়েছে। ফলে বিমানবন্দর নিরাপত্তা, কাস্টমস, ডিএনসি এবং অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং যাত্রীদের আচরণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনেক পাচারচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে মাদকবিরোধী বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। শুধু বিমানবন্দর নয়, স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মাদক পাচার, সংরক্ষণ ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই এ ধরনের অপরাধ দমনে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিমানবন্দরে সর্বশেষ এই অভিযানও সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডিএনসি জানিয়েছে, চলমান তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার করে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত