প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আবারও পুশইনের অভিযোগ সামনে এসেছে। দিনাজপুর ও ঝিনাইদহ সীমান্ত দিয়ে মোট ১৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দুই সীমান্তেই ওই চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা আরও জোরদার করেছে বিজিবি। একই সঙ্গে বিষয়টি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শনিবার ভোরে পৃথক সময়ে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার খিয়ারমাহমুদপুর সীমান্ত এবং ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। সীমান্তে অবস্থানরত বিজিবি সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখা কিংবা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার খিয়ারমাহমুদপুর সীমান্তে ভোর প্রায় ৪টার দিকে ভারতীয় সীমান্ত থেকে ৯ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি জানায়, ওই দলে আটজন নারী এবং একজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ছিলেন। সীমান্তের দায়িত্বে থাকা বিজিবি সদস্যরা সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবির সঙ্গে অবস্থান নেন। এতে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
স্থানীয় ভাইগড় বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার পিয়া আলম বলেন, ভোরে ভারতীয় সীমান্তের দিক থেকে কয়েকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। বর্তমানে ওই ৯ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন এবং পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তেও একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে। বিজিবির খালিশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ৫৫/এমপি সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি গেইট ব্যবহার করে ভারতের সিঙ্গামোড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা চারজন পুরুষ ও দুইজন নারীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন।
বিজিবি সদস্যরা ঘটনাটি টের পেয়ে দ্রুত সেখানে অবস্থান নেন এবং পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেন। পরে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দিয়ে সীমান্তের ভারতীয় অংশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিজিবি জানায়, বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৩০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্তে এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বিজিবি সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। সীমান্ত টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
বিজিবি সূত্র বলছে, সীমান্তে পুশইনের অভিযোগ নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনার প্রচলিত নিয়ম, দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা এবং মানবিক বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, জাতীয়তা এবং তাদের সীমান্তে অবস্থানের কারণ যাচাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক সীমান্তে যেকোনো ব্যক্তি স্থানান্তর বা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। অন্যথায় সীমান্তে উত্তেজনা এবং মানবিক জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্তে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সদস্যরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে বাহিনী।