সর্বশেষ :
কেনিয়ায় ভয়াবহ বৃষ্টি-বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ যশোরে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রশিক্ষণ বিমানের জরুরি অবতরণ লেবাননে হামলায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ: এইচআরডব্লিউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নিরাপত্তা ও সামরিক দক্ষতায় মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন নেতা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ নিহত ঈদে নতুন নোট নেই, খোলা বাজারে দাম দাড়িয়েছে আকাশছোঁয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিদ্যুৎ-জ্বালানি বাজারে প্রভাব ছড়াচ্ছে হাদি হত্যার আসল খুনি নিয়ে প্রকাশ্যে সালাহউদ্দিন আম্মার মত আজ থেকে বন্ধ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগে

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ১১ বার
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ নিহত

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সৌদি আরবে একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মোশাররফ হোসেন (৩৮) নিহত হয়েছেন। তিনি কীর্তনখোলা মধ্যপাড়া গ্রামের মো. সুজাত আলীর ছেলে। রোববার বাংলাদেশ সময় রাত নয়টার দিকে আল-খার্জ এলাকার একটি কম্পাউন্ডে এ ভয়াবহ ঘটনার ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে কাজ করা স্থানীয়রা পরিবারকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন মোশাররফ। দুই বছর আগে সর্বশেষ তিনি দেশে এসেছিলেন। তিনি সৌদিতে নিজের পরিবার ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জীবিকার জন্য কাজ করছিলেন। মৃত্যুর ঠিক আধা ঘণ্টা আগে পর্যন্ত তিনি বড় ছেলে মাহিমের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন। মাহিম বর্তমানে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট ছেলে মিহান মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।

মাহিম জানান, গত রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন। তখন মোশাররফ বলেছিলেন, ঈদের কাপড়চোপড় যা লাগে কিনে নিতে। পরে তিনি টাকা পাঠাবেন। কিন্তু তার কথার কিছুক্ষণ পরই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোশাররফ নিহত হন। এই ঘটনা পুরো পরিবারকে অশান্ত করে দিয়েছে।

মোশাররফের স্ত্রী কবরী আক্তার জানান, “এখন এই দুই সন্তানকে নিয়ে আমি কীভাবে চলব? আমাদের এখন কে দেখবে?” তিনি আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, সন্তানদের জন্য তিনি নিজের সকল শক্তি দিয়ে চেষ্টা চালাবেন, তবে নিজের স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু পরিবারের জন্য এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। মোশাররফের বাবা সুজাত আলীও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “আমার ছেলেকে তো আর পাব না। অন্তত তার লাশ দেশে ফেরত চাই, যেন শেষবারের মতো তাকে দেখতে পারি।”

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, “ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। দ্রুত মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, সরকার এই ধরনের দুর্ঘটনার শিকারদের পাশে সবসময় থাকবে এবং তাদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

সৌদি আরবের আবাসিক এলাকায় নাগরিকদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল ডিফেন্স ব্যবস্থা নিয়োজিত থাকলেও কিছু এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সীমিত সংঘাতের কারণে এমন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ সরকারও সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দ্রুত সহায়তা প্রদান করা যায়।

মোশাররফের জীবনযাত্রার কাহিনি সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষণীয়। তিনি জীবিকার তাগিদে বিদেশে গিয়েছিলেন, পরিবারকে ভালোভাবে রাখার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করতেন এবং ঈদ বা অন্যান্য উৎসবে পরিবারের জন্য যতটুকু সম্ভব অর্থ পাঠাতেন। তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবার ও গ্রামবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। বিশেষ করে শিশু সন্তানরা এই হঠাৎ বিচ্ছেদে মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, মোশাররফ একজন পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল মানুষ ছিলেন, যিনি সবসময় পরিবারের স্বার্থে কাজ করতেন।

এই ঘটনায় সমাজে মানবিক সহমর্মিতা ও একাত্মতার আহ্বান করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষকে তৎপর থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা দিয়েছেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজসেবী সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছে।

সংক্ষেপে, সৌদি আরবের আল-খার্জ এলাকায় এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ হোসেনের মৃত্যু বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য শোকের বার্তা নিয়ে এসেছে। পরিবার এখন তাদের হারানো প্রিয়জনের স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করছে। সরকারের তৎপরতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় মরদেহ দ্রুত দেশে আনা হবে এবং পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত