সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ: মির্জা ফখরুলের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ১০ বার
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারের নতুন উদ্যোগ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি বলেছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারের দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে এবং তারা তাদের কথা রেখেছেন। মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ইউআই আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। এই কার্ড সবাই পাবেন, প্রত্যেক ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। শুধু সময়ের ব্যাপার। ফ্যামিলি কার্ড একটি শক্তি বা ক্ষমতা, যার মাধ্যমে মানুষ সব জায়গায় গুরুত্ব ও মর্যাদা পেতে সক্ষম হবে। পুরুষদের সঙ্গে নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তৈরিতে এই কার্ড সহায়তা করবে।’

ফখরুল আরও জানান, সরকারের নীতি অনুযায়ী কার্ডধারীরা ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও সেচের সুবিধা নিতে পারবেন। এছাড়া, কৃষিঋণও মওকুফ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ১৬ তারিখে খাল-খনন শুরু হবে। বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে খরায় কাজে লাগানো হবে। প্রত্যেক কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত ১৫ বছর আইনকানুন না থাকার কারণে মানুষ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আগের সময় টাকা ছাড়া কার্ড পাওয়া যেত না। এবার কোনো টাকা-পয়সা লাগবে না। হতাশ হবেন না, সবাইকে কার্ড দেওয়া হবে। নারী ডিসি, এসপিরাও কার্ড পাবেন। তারা কীভাবে ব্যবহার করবেন সেটা পরের বিষয়। জনগণের শক্তির কাছে কোনো শক্তিই বড় নয়।’

ফখরুল আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমি বলেছিলাম, এটা আমার শেষ নির্বাচন। জনগণ আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে ঋণ শোধ করতে পারব না, তবে কিছু কাজ করে যেতে চাই। ২০২৭ সালে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। বেকারদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করা হবে।’

এ সময় ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম এনডিসি, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, বিএনপির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় জনগণও এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে সরকারের উদ্যোগ ও মন্ত্রীর বক্তব্যকে সহানুভূতির সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।

ফখরুলের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে যে ফ্যামিলি কার্ড শুধু সরকারি নথি নয়, বরং এটি মানুষের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক একটি মাধ্যম। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেছেন যে, কার্ড বিতরণের মাধ্যমে জনগণের শক্তি ও অধিকার রক্ষা করা হবে এবং এতে নারী ও পুরুষ উভয়েরই ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয় কার্ড বিতরণের সঙ্গে যুক্ত সকল কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে কার্ড পৌঁছে দিতে স্থানীয় অফিস ও জনপ্রতিনিধিরা সহায়তা করছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক ও সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা গ্রহণে সহজলভ্য হবে, যা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ফখরুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষক, সরকারি কর্মকর্তা, নারী ও যুবকরা প্রাধান্য পাবেন। এছাড়া, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে এই কার্ডের সুবিধা বাড়ানোর কাজও করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন যে কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের বৈষম্য হবে না এবং প্রতিটি ঘর ও পরিবারের সদস্য এই সুযোগ পাবেন।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণ ও মানুষের কল্যাণে সরকারের মনোভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য হলো মানুষের জীবনে প্রকৃত উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ সেই লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত