ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ বার
ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি সালাম ও তার স্ত্রীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের তথ্য সরবরাহের নির্দেশ আদালতের আদেশে।

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অর্থ পাচারের অভিযোগে ঢাকা ওয়াসার অপসারণকৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুস সালাম বেপারী ও তার স্ত্রী মাহবুবুন্নেছাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সিআইডিকে সরবরাহের জন্য একাধিক সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিআইডি পুলিশের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ও অর্গানাইজড ক্রাইম পরিদর্শক মো. আশরাফুল ইসলাম এর আগে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, সালাম বেপারী ও তার স্ত্রী, পাশাপাশি তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সম্পত্তি অর্জন করেছেন। এতে দেশের আর্থিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতায় ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

আদালতে সিআইডি উল্লেখ করে, অভিযুক্তদের বিদেশ গমন ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের বিদেশি সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ করা জরুরি। অর্থ পাচারের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষকে আদেশ অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করতে হবে। আদালতের এই পদক্ষেপ নিশ্চিত করছে যে দেশের আর্থিক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ কার্যকর ও সমন্বিতভাবে হচ্ছে।

ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি সালাম বেপারী দীর্ঘদিন রাজধানীর জল ও পানি ব্যবস্থাপনা খাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তবে তাকে নানা অনিয়ম ও অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ও তার পরিবার বিদেশি ও দেশি সম্পদ গোপন রেখে বিপুল আর্থিক লেনদেন করছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় দেশের আর্থিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।

সিআইডি পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের আর্থিক নিরাপত্তা ও ব্যাংকিং সেক্টরের স্বচ্ছতা গুরুতর হুমকির মুখে পড়বে। তাই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলে অভিযুক্তদের বাইরে থেকে সম্পদ হস্তান্তর বা লেনদেনে বাধা সৃষ্টি হবে, যা তদন্তকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করবে।

বিচারক বলেন, দেশের আর্থিক আইন লঙ্ঘন এবং অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে যে কোনো ব্যক্তি আইনগত দায়বদ্ধ। তাই অভিযোগের প্রমাণ সাপেক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি আদালত নিশ্চিত করছে। তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও আদালতের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে এই ধরনের আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অভিযুক্তদের ওপর সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের আর্থিক স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তদন্ত এবং তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অন্যদের জন্যও সতর্কবার্তা তৈরি হবে।

সিআইডি জানায়, বর্তমানে দেশের আর্থিক অপরাধ ও অর্থ পাচারের বিভিন্ন চক্র গোপনভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা আর্থিক সেক্টরের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারবে।

ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ সংরক্ষণের অভিযোগ আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা ও সহযোগী দেশগুলোর কাছে দেশের প্রতিশ্রুতি ও আইনি কার্যক্রমের প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

এই ঘটনায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে দেশে আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের মতো জটিল বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর অনুসন্ধান ও নজরদারি আরও দৃঢ় হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ও বিচারব্যবস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত