প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমান তার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সমতুল্য পদে নিযুক্ত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এ সংক্রান্ত চিঠি তিনি ২২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে পাঠান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
জামায়াত আমিরের চিঠিতে বলা হয়, মাহমুদুল হাসান জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে জ্ঞাতব্যতার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তার পদায়নের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় সরকারের কাছে উপস্থাপন, পর্যালোচনা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।
যদিও চিঠিতে ‘মন্ত্রির পদমর্যাদা’ উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের একান্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আমিরের লিখিত সম্মতি ছিল না। তিনি বলেন, মাহমুদুল হাসান বিষয়টি আমিরকে অবহিত করেছিলেন এবং আমির মৌখিকভাবে সম্মতিও দিয়েছিলেন, তবে মন্ত্রির সমতুল্য পদ বিষয়ক অংশে তাদের সম্মতি ছিল না। বিষয়টি জানার পর আমির নিজে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এরপর মাহমুদুল হাসানকে বাদ দিয়ে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে জামায়াতের নতুন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এই পরিবর্তন সম্পর্কে পররাষ্ট্র সচিবকে অবহিত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহল বিশ্লেষণ করছে, জামায়াতের এই পদায়ন সংক্রান্ত উদ্যোগের মাধ্যমে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়। অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং কূটনৈতিক দক্ষতা দলের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহায়ক করতে পারে, তবে পদায়ন প্রক্রিয়ায় সম্মতি ও পর্যাপ্ত আলোচনার অভাবে পরিবর্তন আনয়ন কার্যক্রমটি সমালোচনার মুখে পড়েছে।
মুক্তমনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধীদলীয় নেতাদের উপদেষ্টা পদগুলো কেবল দলীয় কূটনৈতিক কার্যক্রমকে সমর্থন করে না, বরং জাতীয় পররাষ্ট্রনীতিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও পর্যালোচনার সুযোগও তৈরি করে। তাই এই ধরনের পদায়ন প্রক্রিয়া দেশের কূটনৈতিক নীতি ও সমঝোতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
পররাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে দলীয় উপদেষ্টাদের কার্যকর নিযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। তবে পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও লিখিত সম্মতির বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত। এতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি কমে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ভুল বোঝাবুঝি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
জামায়াতের এই পদায়ন প্রক্রিয়া এবং উপদেষ্টা পরিবর্তনের ঘটনা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতাদের পররাষ্ট্র নীতির অংশগ্রহণ এবং দলীয় কূটনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অনেকেই।
চূড়ান্তভাবে, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে নতুন উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হলেও বিষয়টি কেবল দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সমন্বয় ও কূটনৈতিক দক্ষতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এই পদায়ন প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে নজরকাড়া উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।