প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় লিমন হোসেন (২০) নামে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের কানুপুর হালির মোড় এলাকায় ঘটে এ ট্র্যাজিক ঘটনা। নিহত লিমন স্থানীয় বাবু হোসেনের ছেলে এবং পার্শ্ববর্তী মুরগির খামারে কাজ করতেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, লিমন প্রতিদিনের মতো কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। পথে তার দৃষ্টি ও শোনার ক্ষমতা সীমিত থাকায় তিনি আশেপাশের সতর্কতা পুরোপুরি রাখতে পারেননি। এ সময় চিলাহাটি থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আঘাত পান। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, লিমন প্রতিদিনই রেললাইন দিয়ে ওই পথে মুরগির খামারে যাতায়াত করতেন। তবে কানে হেডফোন লাগানোর কারণে তিনি ট্রেনের আওয়াজ শোনেননি, যা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্থানীয়রা আরও জানায়, লিমনের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আক্কেলপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “কানুপুর হালির মোড় এলাকায় চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে।” রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, “পরিবার থেকে খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।” তিনি আরও বলেন, রেলপথে চলাচলের সময় নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
স্থানীয়রা মনে করিয়ে দেন, রেললাইনের ধারে হাঁটা, বিশেষ করে হেডফোন বা মোবাইল ব্যবহারের সময়, জীবনহানির ঝুঁকি বহন করে। এ ধরনের ব্যক্তিগত অবহেলা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করবে।
লিমনের পরিবার শোকাহত। তার বাবা জানিয়েছেন, “আমরা এখনো এ বাস্তবতা মেনে নিতে পারছি না। লিমন খুবই পরিশ্রমী ছেলে ছিল। তিনি প্রতিদিন সকালে খামারে কাজে যেতেন। হঠাৎ এমন মৃত্যু আমাদের পরিবারের জন্য ভীষণ ধাক্কা।” স্থানীয় মানুষজনও পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, রেললাইনের নিরাপত্তা ও সতর্কতা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিক।
দুর্ঘটনাটি শুধু লিমনের পরিবারকে নয়, পুরো এলাকায় সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা উদ্ভূত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, রেলপথে চলাচলের সময় সচেতনতা ও সজাগ দৃষ্টি থাকা অপরিহার্য। হেডফোন বা মোবাইল ব্যবহারের ফলে আশেপাশের আওয়াজ শোনা না গেলে যেকোনো মুহূর্তে প্রাণহানি ঘটতে পারে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোকের ছায়া নেমেছে। মানুষজন লিমনের পরিবারের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং রেললাইনের নিরাপত্তা ও সচেতনতার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন।