প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে দিনের তাপমাত্রা। একই সঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গরমের তীব্রতা বাড়ার আগমুহূর্তে এমন পূর্বাভাস নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নতুন করে স্বস্তি ও উদ্বেগ—দুই অনুভূতিরই জন্ম দিচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজকের দিনটি ঢাকার জন্য তুলনামূলক উষ্ণ ও আর্দ্রতার দিক থেকে কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার কারণে রোদ কখনো তীব্র, কখনো ম্লান হতে পারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করলেও স্থানীয়ভাবে অল্প সময়ের জন্য হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বৃষ্টিপাত তাপমাত্রা কমাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত নন আবহাওয়াবিদরা।
শুক্রবার সকাল ৬টায় রাজধানীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৭ শতাংশ, যা সাধারণ মানুষের জন্য বেশ অস্বস্তিকর অনুভূতির সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ভোরের দিকে হালকা গুমোট আবহাওয়া অনেকেই অনুভব করেছেন বলে জানিয়েছেন। আবহাওয়া অফিস বলছে, দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, যা গত কয়েক দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি গরমের অনুভূতি তৈরি করবে।
গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মৌসুমি পরিবর্তনের একটি স্বাভাবিক ধাপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বসন্তের শেষভাগ ও গ্রীষ্মের শুরুতে এমন আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যায়। কখনো গরম, কখনো হালকা বৃষ্টি—এই ধরণের বৈচিত্র্যই মৌসুমের বৈশিষ্ট্য।
পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই বাতাস দিনের তাপমাত্রা সহনীয় রাখতে কিছুটা ভূমিকা রাখলেও আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় অস্বস্তি পুরোপুরি কমবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরের ব্যস্ত সড়ক, যানজট ও কংক্রিটের অবকাঠামো তাপমাত্রা আরও বেশি অনুভূত হওয়ার অন্যতম কারণ।
রাজধানীর বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে এই আবহাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় অনেকেই গরমের কারণে অস্বস্তি অনুভব করেছেন। আবার আকাশ মেঘলা থাকায় কেউ কেউ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা ভেবে ছাতা সঙ্গে রাখছেন। শিক্ষার্থী, পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। কখনো তীব্র রোদ, আবার হঠাৎ বৃষ্টি—এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজধানীতে দ্রুত নগরায়ণ ও সবুজের ঘাটতি তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। কংক্রিটের ভবন ও রাস্তা দিনের বেলায় তাপ শোষণ করে এবং রাতে ধীরে ধীরে তা ছেড়ে দেয়। ফলে শহরের তাপমাত্রা আশপাশের গ্রামীণ এলাকার তুলনায় বেশি অনুভূত হয়। এটিকে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করেন আবহাওয়াবিদরা। তারা মনে করেন, নগর পরিকল্পনায় পর্যাপ্ত সবুজায়ন ও খোলা জায়গা নিশ্চিত করা গেলে এই সমস্যা কিছুটা কমানো সম্ভব।
এদিকে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় কৃষি ও পরিবেশ খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও রাজধানীতে বৃষ্টির পরিমাণ সীমিত থাকতে পারে, তবে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে এর প্রভাব বেশি দেখা যেতে পারে। বৃষ্টির কারণে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ কমে গিয়ে পরিবেশ কিছুটা নির্মল হতে পারে। পাশাপাশি তাপমাত্রাও সাময়িকভাবে কমতে পারে, যা নগরবাসীর জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে উঠবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এমন আবহাওয়ায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতা শরীরে পানিশূন্যতা, ক্লান্তি ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা, হালকা পোশাক পরা এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে বেশি সময় না থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হালকা বৃষ্টি হলে ভেজা অবস্থায় দীর্ঘ সময় না থাকার কথাও বলা হচ্ছে, কারণ এতে সর্দি-কাশি বা ভাইরাল সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনে আবহাওয়ার এমন ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়লেও মাঝে মাঝে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে, যা মৌসুমের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে এই পরিবর্তন আগের তুলনায় বেশি তীব্র বা অনিশ্চিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে রাজধানী ঢাকার আবহাওয়া এখন পরিবর্তনের এক সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। গরমের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি বৃষ্টির সম্ভাবনা মানুষের জীবনে নতুন ছন্দ এনে দিচ্ছে। কর্মব্যস্ত নগরীতে এই পরিবর্তন কখনো স্বস্তি, কখনো অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। আবহাওয়া অফিসের নিয়মিত পূর্বাভাসের দিকে নজর রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিলে এই মৌসুমি পরিবর্তনের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।