প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে দারুণ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত হবে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। ফলে ম্যাচটি ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা ও প্রত্যাশা।
দীর্ঘ সময় পর আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরে প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ দল। ব্যাট-বলের সমন্বিত পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে সহজেই পরাজিত করে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে তারা। সেই জয়ের রেশ ধরে দ্বিতীয় ম্যাচেও একই ছন্দ ধরে রাখতে চায় বাংলাদেশ। কারণ এই ম্যাচে জয় পেলে শুধু সিরিজ নিশ্চিতই হবে না, বরং আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়েও উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে।
প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। দুর্দান্ত গতির বোলিংয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত ধ্বংস করে দেন তিনি। মাত্র ২৪ রান খরচায় পাঁচ উইকেট শিকার করে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়েন এই তরুণ। তার তোপে পাকিস্তানের ব্যাটাররা টিকতেই পারেননি। মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে তরুণ ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। মাত্র ৪২ বলে ৬২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একাধিক চার ও ছক্কার মার। ফলে মাত্র ১৫ দশমিক ১ ওভারেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ এবং বড় জয় নিশ্চিত করে।
এই জয় দলের ভেতরে নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স দলকে দিয়েছে নতুন আশার আলো। দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে ক্রিকেটে এমন পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের মধ্যেও তৈরি করেছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।
প্রথম ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নেমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ ছিল না। তবে দলের সবাই দারুণভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে। তার মতে, যদি দল একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে, তাহলে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরেকটি কারণে। আগামী ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পেতে হলে আইসিসি র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটের মধ্যে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। বর্তমানে র্যাংকিংয়ে দশ নম্বরে অবস্থান করছে টাইগাররা। তাই প্রতিটি ম্যাচ এখন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৭৬। আজকের ম্যাচে জয় পেলে এই পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়াবে ৮০-এ। এর ফলে র্যাংকিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে। তাই আজকের ম্যাচটি শুধু সিরিজ জয়ের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপের পথ সুগম করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের স্মৃতি খুব বেশি নেই। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়েছিল টাইগাররা। এবারও সেই স্মৃতি নতুন করে জাগিয়ে তুলতে চায় স্বাগতিকরা।
এদিকে পাকিস্তান দলও সহজে হার মানতে রাজি নয়। অনেকটা তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছে তারা। ছয়জন নতুন মুখ নিয়ে গঠিত দলটি প্রথম ম্যাচেই চারজন ক্রিকেটারকে অভিষেক করিয়েছে। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারই ছিলেন অভিষিক্ত। ফলে অনভিজ্ঞতার কারণে প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ভুগতে হয়েছে পাকিস্তানকে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে ইতোমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একসঙ্গে এত নতুন খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্ত দলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। তবে দলটির অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি পরিস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে দেখার চেষ্টা করছেন।
প্রথম ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ওয়ানডে ক্রিকেটে ছোট ছোট জুটি অনেক সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই সেই ছোট জুটির গুরুত্ব অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, সিরিজে এখনও দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে এবং সেই ম্যাচগুলোতে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে পাকিস্তান।
আজকের ম্যাচে পাকিস্তান দলে কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, একাদশে অন্তত দুটি পরিবর্তন আনতে পারে সফরকারীরা। উইকেটরক্ষক ব্যাটার ঘাজি ঘৌরি দলে সুযোগ পেতে পারেন। এছাড়া অভিজ্ঞ পেসার হ্যারিস রউফ ও স্পিনার ফয়সাল আকরামও একাদশে জায়গা পেতে পারেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। প্রথম ম্যাচে যারা খেলেছেন, তারাই দ্বিতীয় ম্যাচেও মাঠে নামতে পারেন। কারণ দলটি বর্তমানে বেশ ভালো ছন্দে রয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে সেই ছন্দ নষ্ট করতে চাইবে না টিম ম্যানেজমেন্ট।
সব মিলিয়ে আজকের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করা এবং র্যাংকিংয়ে উন্নতি করা। অন্যদিকে পাকিস্তানের লক্ষ্য থাকবে ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনা এবং সমালোচনার জবাব দেওয়া।
মিরপুরের গ্যালারিতে আজও দর্শকদের ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সেই আশার প্রতিফলন ঘটবে আজকের ম্যাচেও।
ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন মিরপুরের দিকেই। সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ, আর লড়াইয়ে টিকে থাকতে মরিয়া হয়ে উঠবে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত কোন দল হাসবে বিজয়ের হাসি—সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।