মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার, সিঙ্গাপুরে নেওয়ার ভাবনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার
মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার, সিঙ্গাপুরে নেওয়ার ভাবনা

প্রকাশ: ১৪ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা Mirza Abbas-এর মস্তিষ্কে জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে দেশের শীর্ষ নিউরো বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এই অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর সতর্ক নজর রাখছেন।

হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে তাঁর চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও আপাতত সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই মুহূর্তে তাঁকে দেশের বাইরে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা নেই। তবে প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভবিষ্যতে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকালে মির্জা আব্বাসের সিটিস্ক্যান করা হলে চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করেন। এরপর দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের সদস্যরা রিপোর্ট ও অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। বিকেলের দিকে অভিজ্ঞ নিউরো সার্জনদের তত্ত্বাবধানে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

মেডিকেল বোর্ডে দেশের বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত নিউরো বিশেষজ্ঞ যুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক রাজিউল হক, অধ্যাপক সাঈদ আহমেদ, অধ্যাপক কাদের শেখ এবং অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম। এছাড়া এভারকেয়ার হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসক দলও চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পরবর্তী সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ডা. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, মির্জা আব্বাসকে তাৎক্ষণিকভাবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাঁর পরিবার দেশের চিকিৎসার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছে এবং এখানেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে চিকিৎসকরা যদি পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে তাঁকে বিদেশে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

পরিবারের পক্ষ থেকেও দেশবাসীর কাছে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া চাওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে সবার দোয়া ও সমর্থন তাঁদের জন্য বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ইফতারের সময় হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। ইফতার করতে বসার সময় তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও দ্রুত পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। পরে রাত গভীর হলে তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন থেকেই চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর চিকিৎসা শুরু করে।

প্রথম দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাঁকে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিতে চাননি। ফলে আপাতত দেশের মধ্যেই তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যান প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। শুক্রবার জুমার নামাজের পর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মির্জা আব্বাসের চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় মির্জা আব্বাসের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন। তিনি চিকিৎসকদের কাছে জানতে চান কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কী পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার খবর গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে যান Shafiqur Rahman, যিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি হাসপাতালে গিয়ে মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন।

পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে জানান, হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখে এসেছেন। তিনি মহান আল্লাহর কাছে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং প্রার্থনা করেন যাতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।

হাসপাতালে মির্জা আব্বাসকে দেখতে আরও যান বিএনপির মহাসচিব Mirza Fakhrul Islam Alamgir। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। একই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের অন্যান্য নেতারা।

রাজনৈতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ এই নেতার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। দলের নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা এবং দেশবাসীর দোয়ার মাধ্যমে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

মির্জা আব্বাস বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি পরিচিত নাম। বিভিন্ন সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর অসুস্থতার খবর তাই রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পরবর্তী কয়েক দিন তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি বা অবনতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তাই এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা চিকিৎসকদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন এবং দেশবাসীর কাছে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করছেন। তারা আশা করছেন, চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা এবং সবার প্রার্থনায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।

বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং চিকিৎসক দল নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করছে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষ এখন তাঁর সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত