মুন্সীগঞ্জে নদীতে গোসলে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার
মুন্সীগঞ্জে নদীতে গোসলে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মেঘনা নদীর একটি শাখা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া আবির হোসেন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে নলবুনিয়াকান্দি এলাকার গুদারাঘাট সংলগ্ন নদীর তলদেশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আবির মুন্সীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। তিনি সদর উপজেলার সৈয়দপুর এলাকার মো. আকতার হোসেনের ছেলে।

ঘটনার দিন রোববার দুপুরে আবির হোসেন ও তার তিন বন্ধু নদীতে গোসলে নেমেছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার বন্ধু একসঙ্গে সাঁতার কাটছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন সাঁতরে নদীর তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও আবির হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। বিষয়টি দেখতে পেয়ে বন্ধুরা চিৎকার শুরু করে এবং আশপাশের লোকজনকে খবর দেয়।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। ডুবুরি দল নদীর তলদেশে অনুসন্ধান চালায়। এক দিনের প্রচেষ্টার পর সোমবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রায় ২০ ফুট পানির নিচ থেকে আবিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্কুলছাত্র আবিরের বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা জানাচ্ছেন, আবির একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অত্যন্ত সুসজ্জিত ও বন্ধুবৎসল ছিল। গ্রামের মানুষজনও এই দুর্ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।

উদ্ধারকালে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন, নদীতে সাঁতার কাটার সময় সতর্কতার অভাব ও প্রবল স্রোত মূলত এই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীতে সাঁতার কাটার সময় ছোটদের উপর পর্যবেক্ষণ রাখা এবং সাঁতার শেখার পূর্বে সতর্কতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় স্কুল ও কমিউনিটি লেভেলে সাঁতার শিক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষণ কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা এখানে পুনরায় ফুটে উঠেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আবিরের স্কুলছাত্র হিসেবে পড়াশোনা এবং খেলাধুলা, উভয় ক্ষেত্রেই তিনি পারদর্শী ছিলেন। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় কমিউনিটি এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ শোকাহত পরিবারকে সমর্থন দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিবারকে যে কোনো প্রকার সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এই ধরনের দুর্ঘটনা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। নদী, খাল ও জলাশয়ে সাঁতার কাটার সময় যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন, নদীতে প্রবল স্রোত, গভীরতা ও অজানা ঝুঁকি বিষয়গুলো সবসময় মাথায় রাখতে হবে।

মুন্সীগঞ্জের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয়রা বলেন, এখন থেকে বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নদীতে একা বা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়া সাঁতার কাটতে দেওয়া ঠিক হবে না। তারা আশা করছেন, প্রশাসন এ ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় ঘটানো রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

উদ্ধারকৃত মরদেহ পুলিশের হেফাজতে থাকার পর মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনা গভীরভাবে শোকাহত হলেও সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত