বাংলাদেশ-ভারতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে: প্রণয় ভার্মা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
বাংলাদেশ-ভারতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে: প্রণয় ভার্মা

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সোমবার (১৬ মার্চ) বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগকে আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, আজ সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে বৈঠকে চলমান প্রকল্প ও ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রণয় ভার্মা সাংবাদিকদের বলেন, দু’দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগ সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে উভয় দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি বলেন, এই সংযোগ কেবল বর্তমান সময়ের প্রয়োজন মেটাবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।

হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা আরও বলেন, বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন, ট্রান্সমিশন এবং জ্বালানি সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ ও ক্রস-বর্ডার প্রকল্পগুলোকে উন্নত করা যায়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিল্প, উৎপাদন এবং সেবা খাত আরও বিস্তৃত হবে।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের চলমান বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এবং টানেল ও লাইন সম্প্রসারণ প্রকল্পগুলোতে ভারতের সহায়তা ইতিমধ্যেই দৃষ্টিগোচর। তিনি জানান, ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তিগত সহায়তা, বিনিয়োগ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলোকে আরও কার্যকর করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন ও গ্রিড সংযোগ প্রসারিত করার সুযোগ নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। প্রণয় ভার্মা বলেন, এমন উদ্যোগ শুধু দুই দেশের বিদ্যুৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে না, বরং শিল্প, উৎপাদন ও পরিবেশ বান্ধব প্রকল্পগুলোর সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বৈঠকে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রকে আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দু’দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগ ও সহযোগিতা কেবল বিদ্যুৎ সেক্টরেই নয়, বরং শিল্প ও অর্থনৈতিক খাতের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রণয় ভার্মা আরও বলেন, বাংলাদেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রকল্পগুলোতে ভারতের অংশীদারিত্ব থাকায় তা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

উভয় পক্ষই বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগের উন্নয়ন কেবল দুই দেশের মধ্যে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, শক্তিশালী বিদ্যুৎ সংযোগ শিল্পখাতকে উন্নত করবে, উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এবং গ্রাহকদের জন্য স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

প্রণয় ভার্মা সাংবাদিকদের আরও বলেন, এই ধরনের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংযোগ ও সহযোগিতা কেবল অর্থনৈতিক নয়, তা কূটনৈতিক ও মানবিক বন্ধনকেও দৃঢ় করে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগ প্রসারিত করা হলে দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা দুই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বিনিয়োগের সুযোগ এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ক্রস-বর্ডার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগ দুই দেশের জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। এটি শুধু বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, বরং বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক খাতকে বিস্তৃত করে। এই সংযোগের মাধ্যমে দুই দেশ শক্তিশালী Grid সংযোগ, উৎপাদন ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে পারবে।

প্রণয় ভার্মা সাংবাদিকদের জানান, “এই সংযোগ শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্রা নয়, এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিরও প্রতীক।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে দুই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নতুন উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগ প্রকল্পগুলো আগামী বছরগুলিতে নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি উভয় দেশের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প সম্প্রসারণ এবং স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত