ঈদে টানা ৭ দিনের ছুটি, ঘরমুখো মানুষের ঢল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ বার
ঈদে টানা ৭ দিনের ছুটি

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশে শুরু হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত টানা সাত দিনের ছুটি। মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই দীর্ঘ ছুটি ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ, আর সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক যাত্রা। কর্মব্যস্ত জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে লাখো মানুষ ছুটছেন গ্রামের বাড়ির পথে।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, মঙ্গলবার শবেকদর উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ঈদকে কেন্দ্র করে ১৯ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাচ্ছেন একটানা সাত দিনের ছুটি, যা দেশের কর্মজীবী মানুষের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস বয়ে এনেছে।

মূলত ১৮ মার্চ বুধবার অফিস খোলা থাকার কথা থাকলেও পরে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ওই দিনও ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্বাহী আদেশ জারি করে দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে ছুটির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে টানা সাত দিনের অবকাশ নিশ্চিত হয়।

এই দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় গত কয়েকদিন ধরেই দেখা গেছে ব্যস্ততার ভিন্ন চিত্র। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের চাপ বেড়ে যায় ছুটি শুরুর আগে। শেষ কর্মদিবস সোমবার পর্যন্ত জরুরি কাজ শেষ করতে কর্মীদের মধ্যে ছিল তাড়াহুড়ো। একই সঙ্গে বাজার, শপিংমল ও কাঁচাবাজারগুলোতেও মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

অন্যদিকে, ছুটি শুরু হতেই রাজধানী ছেড়ে মানুষের স্রোত নামতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেকে আগেভাগেই টিকিট সংগ্রহ করলেও, শেষ মুহূর্তে অনেক যাত্রীকে বাড়তি ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। তারপরও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দই যেন সব কষ্ট ভুলিয়ে দিচ্ছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত ট্রিপ ও বিশেষ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ বাড়তি দায়িত্ব পালন করছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে শুধু যাতায়াত নয়, দেশের অর্থনীতিতেও একটি অস্থায়ী গতি সঞ্চার হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যে বাড়তি লেনদেন, পোশাক বিক্রি, খাদ্যপণ্য ক্রয়—সব মিলিয়ে বাজারে এক ধরনের চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা যায়। ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা এই সময়টিকে বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করেন।

গ্রামাঞ্চলেও ঈদের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শহর থেকে মানুষ ফিরতে শুরু করায় গ্রামগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য বেড়েছে। অনেক দিন পর পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে পাওয়া, শিশুদের আনন্দ, আর ঈদের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়েছে।

তবে এই আনন্দের মাঝেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দীর্ঘ ছুটির কারণে জরুরি সেবা ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, পানি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এই সময়েও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাদের ত্যাগ ও পরিশ্রমের কারণেই সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ছুটি উপভোগ করতে পারছেন।

এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে শপিংমল, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দীর্ঘ ছুটি শুধু বিশ্রামের সুযোগই নয়, বরং সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে সামাজিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়, যা সমাজের স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ছুটি শেষে আগামী ২৪ মার্চ থেকে পুনরায় শুরু হবে সব ধরনের কার্যক্রম। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক নিয়মে কাজ শুরু করবে।

সামগ্রিকভাবে, টানা সাত দিনের এই ছুটি দেশের মানুষের জন্য একদিকে যেমন আনন্দ ও স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে, অন্যদিকে তেমনি এটি একটি বৃহৎ সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হয়ে উঠেছে।

ঈদের এই সময়টুকু যেন নিরাপদ, আনন্দময় এবং স্মরণীয় হয়ে ওঠে—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত