আজ জুমাতুল বিদা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ১৩ বার
জুমাতুল বিদা

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার আজ। মুসলিম বিশ্বে এই দিনটি ‘জুমাতুল বিদা’ নামে পরিচিত, যা আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ও ধর্মীয় আবেগে ভরপুর একটি বিশেষ দিন। রমজানের শেষ জুমা হিসেবে এদিনকে ঘিরে মুসলমানদের মাঝে থাকে ভিন্নধর্মী প্রস্তুতি, বাড়তি ইবাদত আর গভীর আত্মসমালোচনার এক পরিবেশ।

রমজান মাস এমনিতেই রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। তবে শেষ শুক্রবার হওয়ায় জুমাতুল বিদার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। অনেকের বিশ্বাস, জীবনে আরেকটি রমজান পাওয়া যাবে কিনা, কিংবা আরেকটি শেষ জুমা আদায় করার সুযোগ মিলবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। তাই এই দিনটিকে ঘিরে ইবাদতে মনোযোগ বাড়ে বহুগুণে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মসজিদে আজ জুমার নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-সহ গুরুত্বপূর্ণ মসজিদগুলোতে সকাল থেকেই মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। অনেকেই সময়ের আগেই মসজিদে এসে অবস্থান নেন, যাতে জামাতে শরিক হতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

জুমার নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করা হয়। ব্যক্তি, পরিবার, দেশ এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় হাত তুলে দোয়া করেন মুসল্লিরা। বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাত থেকে মুক্তির জন্যও প্রার্থনা করা হয়।

জুমাতুল বিদার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘আল কুদস’ দিবস পালন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানরা এই দিনটি উপলক্ষে ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে সংহতি প্রকাশ করেন। জুমার নামাজ শেষে অনেক জায়গায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশেও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এদিন বিশেষ কর্মসূচি পালন করে থাকে। মসজিদভিত্তিক আলোচনা, কোরআন তিলাওয়াত, ইসলামী বক্তৃতা এবং ইফতারের আগে বিশেষ দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিয়ে মুসল্লিরা নিজেদের আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি সমাজ ও মানবতার কল্যাণ কামনা করেন।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জুমাতুল বিদা মুসলমানদের জন্য আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। রমজানের পুরো মাসজুড়ে যে ইবাদত, সংযম এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা করা হয়, এই দিনটি যেন তার একটি সমাপনী উপলক্ষ।

অনেক আলেম-ওলামা মনে করেন, এই দিনে বেশি বেশি নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা এবং তওবা করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। কারণ রমজানের শেষ সময়গুলোতে আল্লাহর রহমত লাভের সুযোগ আরও বেশি থাকে।

জুমাতুল বিদা মুসলমানদের মনে এক ধরনের আবেগও তৈরি করে। একদিকে রমজানের বিদায়ের কষ্ট, অন্যদিকে ঈদের আগমনের আনন্দ—এই দুই অনুভূতির মিশ্রণে দিনটি হয়ে ওঠে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, জুমাতুল বিদা কেবল একটি দিন নয়, বরং এটি এক গভীর আধ্যাত্মিক উপলক্ষ। এই দিনের ইবাদত, দোয়া ও আত্মসমালোচনা মুসলমানদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রেরণা জোগায়।

রমজানের বিদায়লগ্নে আজকের এই পবিত্র দিনে মুসলিম বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্যই প্রার্থনা করছেন কোটি কোটি মানুষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত