প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬ ফাইনালে আবারও শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো দলটি। ব্যাট হাতে নেতৃত্ব দেন অভিজ্ঞ তারকা বিরাট কোহলি, আর বোলিং ইউনিটের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে গড়ে ওঠে জয়ের ভিত।
ফাইনাল ম্যাচের শুরু থেকেই গুজরাট টাইটান্স চাপের মধ্যে পড়ে যায়। আরসিবির পেস আক্রমণ শুরু থেকেই ব্যাটসম্যানদের স্বাভাবিক খেলায় বাধা সৃষ্টি করে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা গুজরাট নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৫ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। ইনিংসের শুরুতেই চাপ তৈরি করে বেঙ্গালুরুর বোলাররা, যার প্রভাব পুরো ম্যাচে স্পষ্ট ছিল।
আরসিবির পেস ত্রয়ী ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হেইজেলউড এবং রাসিখ সালাম ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাসিখ সালাম ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ফাইনালের সবচেয়ে সফল বোলার হিসেবে আবির্ভূত হন। ভুবনেশ্বর কুমার ২৯ রানে ২ উইকেট এবং হেইজেলউড ৩৭ রানে ২ উইকেট তুলে নিয়ে গুজরাটের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। মাঝের ওভারগুলোয় ক্রুনাল পান্ডিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংও গুজরাটকে বড় স্কোর গড়তে দেয়নি।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা ছিল আক্রমণাত্মক। ভেঙ্কাটেশ আইয়ার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রান তোলার গতি বাড়ান। তবে দলের মূল ভরসা হয়ে ওঠেন বিরাট কোহলি। তিনি একপ্রান্তে থিতু হয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন।
চাপের মুহূর্তে কোহলি খেলেন আইপিএলে নিজের দ্রুততম ফিফটির একটি ইনিংস। ৪২ বলে ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনি ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান। তার ব্যাটিংয়ে ছিল অভিজ্ঞতা, সময়জ্ঞান এবং ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অসাধারণ সমন্বয়।
শেষ মুহূর্তে আরশাদ খানের একটি লেংথ ডেলিভারিকে লং-অনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন কোহলি। শটটি খেলার পরই তিনি হেলমেট খুলে গ্যালারির দিকে হাত নেড়ে উদযাপন করেন। মুহূর্তেই ডাগআউট থেকে সতীর্থরা মাঠে ছুটে এসে যোগ দেন আনন্দ উল্লাসে।
আরসিবি ১৮ ওভারে ১৬১ রান তুলে ম্যাচ শেষ করে, দুই ওভার হাতে রেখেই নিশ্চিত করে শিরোপা জয়। দীর্ঘ ১৭ আসরের শিরোপা খরা কাটিয়ে গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়া বেঙ্গালুরু এবার টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও দৃঢ় করলো।
অধিনায়ক রজত পাতিদারের নেতৃত্বে দলটি ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত মৌসুমে তার অধিনায়কত্বেই প্রথম শিরোপা জেতে দলটি, আর এবার আসে দ্বিতীয় ট্রফি।
অন্যদিকে গুজরাট টাইটান্সের ব্যাটিংয়ে শুভমান গিল, সাই সুদর্শন এবং অন্যান্যরা বড় অবদান রাখতে ব্যর্থ হন। ওয়াশিংটন সুন্দর ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেও দলকে লড়াইয়ের উপযোগী স্কোরে নিয়ে যেতে পারেননি।
সব মিলিয়ে ফাইনালটি ছিল একপেশে লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি, যেখানে বোলিং ও ব্যাটিং দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়েছে বেঙ্গালুরু। কোহলির অনবদ্য ইনিংস এবং বোলারদের শৃঙ্খলিত পারফরম্যান্সে আইপিএল ২০২৬ শেষ হলো আরেকটি স্মরণীয় চ্যাম্পিয়নশিপ গল্পের মাধ্যমে।