প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি বলেন, দেশের জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই, আর সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার নাটোর জেলা পরিষদ কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজকে সম্মান জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দুলু বলেন, নির্বাচনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম, যার মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষদের সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের জন্য ভাতা চালু করা হয়েছে, যা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকেরা বীজ, সার ও কীটনাশক বিনামূল্যে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। কৃষি খাতকে শক্তিশালী করতে সরকার ইতোমধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও তিনি জানান। এসব উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দুলু তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের সময়কার খাল খনন কর্মসূচি নতুন করে শুরু হয়েছে, যা দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরাও সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম আনু, নাটোরের পুলিশ সুপার মো. আব্দুল ওয়াহাব, জেলা পরিষদের প্রশাসক রহিম নেওয়াজ এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আসাদুজ্জামান আসাদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
দুলু তাঁর বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দলের নেতাকর্মীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে সময় পার করেছেন। সে সময় অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি মরহুমা খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের নেতাদের ত্যাগের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দল এখন আরও সুসংগঠিত।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, অতীতের মতোই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে একযোগে কাজ করতে হবে। ধৈর্য ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে এগিয়ে গেলে দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরেন দুলু। তিনি বলেন, নাটোরের জনগণ শিগগিরই গ্যাস সংযোগের সুবিধা পাবে। এতে করে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গ্যাস সংযোগ চালু হলে নাটোরের অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বেকারত্ব কমাতে সহায়ক হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান। দুলু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নাটোরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কোনো স্থান নেই। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে একটি বিস্তৃত বার্তা তুলে ধরার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত এসব কর্মসূচি বাস্তবে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।