প্রকাশ: ১৮ জুলাই । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকা সিটি কলেজে চলছে চরম অস্থিরতা। অধ্যক্ষ কাজী নিয়ামুল হকের পদত্যাগের দাবিতে টানা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ত ভূমিকা মেনে নিতে রাজি নন।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে কলেজের মূল ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন ২৫তম ও ২৬তম ব্যাচের শতাধিক শিক্ষার্থী। তাদের গলায় ধ্বনিত হয় একটাই দাবি—অধ্যক্ষ কাজী নিয়ামুল হককে অপসারণ করতে হবে। বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষের একক সিদ্ধান্ত, স্বৈরাচারী আচরণ এবং প্রশাসনের ভেতরে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে তারা অনেক দিন ধরেই ক্ষুব্ধ। কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোনো সাড়া মেলেনি। বরং উল্টো আন্দোলনকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ৮ জুলাই ঘটে যাওয়া এক ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেদিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা, যাতে আহত হন দুই শিক্ষার্থী—মেহেদী হাসান তানিম ও অপু। আহত হওয়ার ঘটনায় কোনো বিচার তো হয়নি, বরং শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ ঘটনায় প্রশাসন নির্লিপ্ত থেকেছে। তদন্ত না করে ঘটনার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
এই ঘটনার জের ধরেই শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, তারা একাডেমিক কার্যক্রম, পরীক্ষা এবং ফি প্রদানসহ কলেজের সব নিয়মিত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন যতদিন না অধ্যক্ষ পদত্যাগ করেন এবং আহত শিক্ষার্থীদের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে চাইলে কলেজ কর্তৃপক্ষ মূল ফটক বন্ধ করে দেয়। এতে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
কলেজ ঘিরে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাদের টহল বাড়ানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি, তবে ক্যাম্পাসজুড়ে উৎকণ্ঠা ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রতিদিন নতুন করে আন্দোলনের ধরণ ও পরিসর প্রসারিত হচ্ছে, তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করেও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমিত করা যাচ্ছে না।
এই অবস্থায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংকট যতদিন গড়াবে, ততই শিক্ষাজীবনে প্রভাব পড়বে এবং অনিশ্চয়তা বাড়বে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করা হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।
ঢাকা সিটি কলেজ, যেটি দেশের অন্যতম পুরোনো ও খ্যাতিমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেই প্রতিষ্ঠানই এখন নেতৃত্ব সংকট ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার মধ্যে আটকে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে—ছাত্রদের কণ্ঠ যদি না শোনা হয়, তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কোথায়?
একটি বাংলাদেশ অনলাইন