বরিশালে পুকুরে ডুবে শিশু ভাই-বোনের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ১৩ বার
পুকুরে ডুবে শিশু ভাই-বোনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশু ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের নাম ছাহাদ হোসেন (৫) ও ছাফিয়া আক্তার (৩)। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিবারটি বর্তমানে শোকস্তব্ধ অবস্থায় রয়েছে। মা সুমনা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে কাজিরহাট থানার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের একটি বাড়ির পেছনের পুকুরে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুদের বাবা ছাইদুল হাওলাদার বর্তমানে সৌদিতে আছেন। মা সুমনা তাদের দুজনকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি শিশুদের খাবার খাওয়ানোর পর নিজে ভাত খেতে বসেন। এ সময় শিশু দুজন ঘরের বাইরে খেলতে বের হয়।

কিছু সময় পর মা তাদের দেখতে না পেয়ে আশেপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এই অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা পুকুরের দিকে নজর দেন এবং একপর্যায়ে ছাফিয়া আক্তারের মরদেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারী কর্মীরা একই পুকুর থেকে ডুবন্ত অবস্থায় ছাহাদ হোসেনকেও উদ্ধার করেন। শিশু দুজনকে দ্রুত মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরাফাত জাহান চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। শিশুদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় সমাজ ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শোক প্রকাশ করেন এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

শিশুদের আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, বাড়ির পেছনের পুকুরটি শিশুরা খেলাধুলার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করলেও নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনেরও আরও সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

মায়ের আহাজারি এবং পরিবারের শোকস্তব্ধ মুহূর্তগুলো স্থানীয়রা আজও মনে রেখেছেন। শিশুরা হারিয়ে যাওয়ার এই ব্যথা সারা এলাকায় অনুভূত হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, নিরাপদ খেলার পরিবেশ এবং পুকুর সংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি।

ঘটনাটি বাংলাদেশের শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে। পুকুর, নদী, জলাশয়সহ অন্যান্য জলস्रोतের পাশে শিশুদের নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, স্থানীয় প্রশাসন ও সম্প্রদায়কেও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ দুর্ঘটনা একটি করুণ দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে অভিভাবকের অযত্ন বা সচেতনতার অভাব না হলেও, আকস্মিকভাবে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা পুরো পরিবারকে অস্থির করেছে। শিশুরা যে কোন মুহূর্তে বিপদের মুখে পড়তে পারে, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত