দৌলতদিয়া ফেরীঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর উপচে পড়া ভিড়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৪১ বার
দৌলতদিয়া ফেরীঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ কর্মস্থলে ফিরে আসা শুরু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া ৪ নম্বর ফেরীঘাট। শুক্রবার সকাল থেকেই ফেরীতে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামের বাড়ি থেকে আসা মানুষ পরিবার-পরিজন, লাগেজ ও ব্যাগপত্র নিয়ে ফেরীতে উঠতে গতি হারাচ্ছেন, আর ফেরীতে ওঠার জন্য তৈরি দীর্ঘ লাইনে বাস ও যাত্রীবাহী অন্যান্য যানবাহনও নদী পারাপারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।

যাত্রীদের মধ্যে বিরাজমান একটিমাত্র অনুভূতি হলো উৎসাহ ও আনন্দের সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা। কয়েক দিন আগে ফেরীঘাটে ঘটে যাওয়া বাসডুবির ঘটনায় এখনও মানসিকভাবে ভীতির ছাপ রয়েছে। মাগুরা থেকে পরিবারসহ ঘাটে আসা রাকিবুল হাসান বলেন, ‘‘ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করে আবার কর্মস্থলে ফিরছি। তবে কয়েকদিন আগে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার কারণে নদী পারাপারে কিছুটা ভীতি কাজ করছে।’’ অন্য একজন যাত্রী মানসুরা আক্তার জানান, ‘‘ফেরী ব্যবহার করতে গিয়ে সর্বদা মনে চিন্তা থাকে, কখন কি ঘটে যেতে পারে। তবুও নদী পার হতে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।’’

ফেরীঘাটে মানসিক চাপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিআই ডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার কর্মকর্তারা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ঈদের পর যাত্রীসংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ফলে ঘাটে চাপ এবং মানুষের ভিড় সামলানো আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ঘাট এলাকায় ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ফেরীতে যাত্রীদের নিরাপদ ও দ্রুত পারাপার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘‘ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ঘাট এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। মোবাইল পেট্রল, ফিক্সড পেট্রল এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ এবং নৌপুলিশও দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।’’ এই উদ্যোগের ফলে যাত্রীদের মধ্যে আশ্বস্তির অনুভূতি তৈরি হচ্ছে এবং তারা নিরাপদে নদী পার হতে পারছেন।

ফেরীঘাটের পরিস্থিতি দেখলে বোঝা যায়, ভিড় এবং চাপ সামলাতে ফেরী পরিচালনা দল কঠোর পরিশ্রম করছে। ঈদের ছুটির শেষ দিনে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে ঘাটে উপস্থিত হওয়ায় ফেরীর পরিচালনার দায়িত্বও দ্বিগুণ হয়ে গেছে। যাত্রীদের নিরাপদ ও দ্রুত পারাপারের জন্য ফেরীশিল্পের শ্রমিকরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। তবে যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বজায় রাখা একান্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, দৌলতদিয়া ফেরীঘাটে ঈদ পরবর্তী যাত্রীদের চাপ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ঘাট পরিচালনার সমন্বয় দেশের যাত্রাপথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বাস্তব ছবি তুলে ধরেছে। পাশাপাশি, যাত্রীদের জন্য সচেতনতা, কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা ফেরীঘাটে সুষ্ঠু এবং নিরাপদ পরিবহণ নিশ্চিত করছে।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে, ছুটি শেষে দেশের বৃহত্তম নৌপথগুলোর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আরও সমন্বিত ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাত্রীদের দায়িত্বশীল আচরণ ও সচেতনতা ফেরী ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আগামী দিনে এই রুটের যাত্রী চাপ সামাল দিতে আধুনিক প্রযুক্তি এবং পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত