সর্বশেষ :
আগে ক্লিন, পরে গ্রিন—ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর: উত্তর সিটির প্রশাসক চট্টগ্রামে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা মামলায় আসামি ১৯ জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা অপ্রতুল, যা ইতিহাসের প্রতি অবিচার: ফখরুল শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু : শিক্ষামন্ত্রী স্পেনকে রুখে দেওয়া ভোজিনহার এক রাতেই ফলোয়ার ৫৭ লাখ! ‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে : আশিক চৌধুরী তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: ডা. জাহেদ উর রহমান

সারাদেশে জ্বালানি অভিযান, ৭৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ২১ বার
সারাদেশে জ্বালানি অভিযান, ৭৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ২৮ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার জন্য সরকারের তৎপর অভিযান আরও বিস্তৃত হচ্ছে। জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাত্র একদিনে সারাদেশে একযোগে ২৯৩টি অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে, যার ফলে ৭৮টি মামলায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই তৎপরতা একটি স্থায়ী শৃঙ্খলা স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দেশের ৬২টি জেলায় জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ, বাজার অনিয়ম, জ্বালানি ক্ষুদ্র ও বড় মিল গুলোতে চুরি-ছলা ও মিটার জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণ সহ বিভিন্ন অনিয়ম পর্যবেক্ষণে অভিযান পরিচালিত হয়। একই সাথে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে কর্মকর্তারা জ্বালানি জোগান থেকে শুরু করে মূল্য নির্ধারণ, মিটার ঠিকভাবে না রাখা, চুরি-ছলা, দুর্নীতি ইত্যাদি বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরেছেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করেছেন।

পর্যবেক্ষণে অংশ নেওয়া জ্বালানি বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেটরা জানিয়েছেন, অভিযানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের মৌলিক চাহিদা মেটাতে জ্বালানি সেবা যাতে নির্দিষ্ট নিয়ম ও নীতিমালা অনুযায়ী সরবরাহ হয় তা নিশ্চিত করা। তেল, গ্যাস, ডিজেল, এলপি গ্যাসসহ জ্বালানির যে কোন ধরণের সরবরাহে অনিয়ম, অতিরিক্ত মূল্য বা মিটার জালিয়াতি প্রতিরোধে সরকারের শূন্য সহনশীলতা নীতির অংশ স্বরূপ এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেটগণ বলেছেন, ‘‘সারাদেশে এই পর্যবেক্ষণ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যারা নিয়ম লঙ্ঘন করবেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ এখন পর্যন্ত আদায়কৃত অর্থদণ্ড ও মামলা দায়েরের সংখ্যা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত বাড়ছে।

জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শহর, উপশহরসহ গ্রামীণ এলাকায় প্রতিদিন স্বতঃস্ফূর্তভাবে জ্বালানি সম্পর্কিত দালালদের ক্রয়-বিক্রয়, মূল্যদর ঠিক না রাখা, মিটার জালিয়াতি, জ্বালানি চুরি, ব্যক্তিগত লাভ লোভে অতিরিক্ত দাম নেওয়া এবং অদক্ষতার কারণে সরবরাহ ব্যাহত করা হচ্ছে এমন অভিযোগে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে অভিযানকালে সংশ্লিষ্ঠদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জনগণের ক্ষতি রোধে মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়েছে। অভিযান চলাকালীন বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ মিটার, কালোবাজারি উপকরণ ও আর্তচাপের শিকার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

জ্বালানি সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জ্বালানি পরিস্থিতির উপর সরকারের এই মনিটরিং অ্যাকশন জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ এখন এমন এক পর্যায়ে এসেছে যেখানে জ্বালানির বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ একটি কঠিন দায়িত্বের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, মূল্য ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে অনিয়ম ইত্যাদি মিলিয়ে চলমান নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারী কর্মকর্তাদের মতে, ‘‘শুধুমাত্র প্রচারণা বা অনুরোধ-ফিরিশতা দিয়ে এই খাতে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। কঠোর নজরদারি, বাস্তবতায় অভিযান ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেই সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলিত করা সম্ভব।’’

তাদের ভাষ্য, অভিযান চলাকালীন যে ৭৮টি মামলায় অপরাধীরা অভিযুক্ত হয়েছে, তাদের বেশিরভাগ অপরাধ ছিল অযৌক্তিক দাম চাওয়া, মিটার না পাওয়া বা জালিয়াতি, জ্বালানি চুরি ও বিক্রয়ের অনুমতি ছাড়া কার্যক্রম চালানো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, অভিযানকালে বিভিন্ন জ্বালানি পাম্প, মিটার রিডিং কেন্দ্র, গ্যাস স্টেশনে অনীয়মের জনিত কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং কিছু মামলায় ধারাবাহিক তদন্ত চলছে।

ঢাকা শহর ও এর আশপাশের এলাকায় জ্বালানি বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। আক্রান্ত এলাকা গুলোতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সরকারের এই পদক্ষেপ সংক্রান্ত প্রশংসা ছড়াচ্ছে। নাগরিকেরা জানান, ‘‘বর্তমানে অনেক সময় পাম্পগুলোতে বা যত্রতত্র গ্যাস ভরার দামে অনিয়ম দেখা যায়, যেটা প্রত্যেক গ্রাহককেই বিরক্ত করে। সরকারের এই অভিযান দেখিয়ে দিচ্ছে যে, জ্বালানি সেক্টরে অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

একই সাথে সরকারের পক্ষ থেকে একটি হটলাইন নম্বরও ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেউ জ্বালানি সংক্রান্ত অনিয়ম বা সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে ভিজিল্যান্স টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ সরাসরি সরকারের নির্ভরযোগ্য টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে এবং অনিয়মের অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনগণ কোন স্থান, সময় বা পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংক্রান্ত অনিয়ম দেখে তাৎক্ষণিক ফোনের মাধ্যমে জানালে তারা দ্রুত তদারকি করে সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযান যদি নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজার আরও স্বচ্ছ, দামের নির্ধারণে শক্ত স্থানাপন্ন হবে এবং গ্রাহকের অধিকার রক্ষা নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকায় যে অনিয়মগুলো অতীতে দীর্ঘদিন ধরে চলে এসেছে, সরকারের এই সতর্ক নজরদারি সেই অনিয়মগুলোকে দ্রুত উন্মোচনে সাহায্য করবে।

জ্বালানি বাজারে চড়া দাম, মিটার জালিয়াতি, চুরি-ছলা ইত্যাদি প্রতিরোধে সরকারের এই ধরণের অভিযান সমাজে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ব্যবসায়ী সকলেই যদি আইন ও নীতিমালা মেনে চলে, তাহলে একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

ইউজারদের কাছে সরকারের এই পদক্ষেপটি একটি ভালো দিক হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন জ্বালানি ব্যবহার করেন তারা জানাচ্ছেন, ‘‘সরকার যদি এমন ধরণের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যায়, তাহলে বাস্তবে জ্বালানি বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে এবং অনিয়মীরা আর দমন করতে পারবে না।’’ এই আশায় নাগরিকদের প্রত্যাশা ও সরকারের নজরদারি একসাথে মিলিয়ে একটি স্থায়ী ও উন্নত জ্বালানি পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত