স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের স্ত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৮ বার
স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের স্ত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) স্ত্রী দিলারা হাফিজ আর নেই — এমন শোক সংবাদটি আবেগঘনভাবে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক ঘরে ঘরে বিস্ময় ও কষ্টের অনুভূতি ছড়িয়ে দিয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। বৃহস্পতিবার (সকাল ১১টা ২৯ মিনিটে) তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন — ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

দিলারা হাফিজ দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যের জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ঈদুল ফিতরের দিন, তাঁর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় এবং সেখানে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসক ও পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং শেষপর্যন্ত সিঙ্গাপুরের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

পরিবার ও গুণগ্রাহী সূত্রে জানা গেছে, দিলারা হাফিজ তাঁর শৌর্যশালী জীবন, মানবিক আচরণ ও দয়ালু মনের জন্য পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন এবং সমাজের অসহায়দের পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর মৃত্যুতে স্বামী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী — বন্ধু, আত্মীয়, শুভানুধ্যায়ী ও অনুসারী গুণীজন শোকাহত।

এই হৃদয়বিদারক সংবাদটি সর্বপ্রথম নিশ্চিত করেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান, যিনি বলেন, “দিলারা হাফিজ একজন আদর্শিন্তা, সমাজসেবী ও পরিবারবান্ধব নারী ছিলেন। তাঁর পরম মৃত্যুতে বাংলাদেশ একটি মানবীয় শূন্যতা অনুভব করবে।” সংবাদটি ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে শোক ও সমবেদনা বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে।

দিলারা হাফিজের মরদেহ আগামীকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশে আনা হবে বলে পরিবার সূত্র জানিয়েছেন। পরদিন সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ দক্ষিণ প্লাজায় বেলা ১১টায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জোহর নামাজের পর রাজধানীর সেনানিবাসে কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানী সামরিক বাহিনীর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

রাজনৈতিক মহল, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ জানান, “একজন সামাজিক নক্ষত্র আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।” তাঁরা আরও বলেন, “দিলারা হাফিজ ছিলেন পরিবারের মরমী স্তম্ভ; তাঁর পরামর্শ ও সহৃদয় আচরণ আমাদের মধ্যে এক বিশেষ স্থানের অধিকারী ছিল। তাঁর মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, সারাদেশের শ্রদ্ধাশীল মানুষের হৃদয় ব্যথিত।”

দিলারা হাফিজ সামরিক, রাজনৈতিক ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক সংগঠন ও কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে মানসিক ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ শিশুদের জন্য নিয়মিত সহায়তা প্রদান ও নারীর ক্ষমতায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এই সব মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি সমাজের অনেক শ্রেণির মানুষের কাছে সম্মান ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।

স্থানীয় জনতা, প্রতিবেশী ও সহকর্মীরা বলছেন, “তিনি ছিলেন এমন এক নারী যিনি জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে অন্যদের জন্য চিন্তা করতেন। তাঁর অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্য ও কাজ আমাদের অনুপ্রাণিত করত।” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে তাঁর কর্মময় জীবন ও মানবিক দিক তুলে ধরে হাজার হাজার মানুষ শোকবার্তা লিখছেন।

দিলারা হাফিজের মৃত্যু ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সামনে রেখে লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলায় স্থানীয় বিএনপি ৩ দিনের শোক ঘোষণা করেছে। শোক পালনকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ তাঁর জীবনের স্মৃতি স্মরণ ও শোক প্রকাশ করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একজন সমাজসেবী ব্যক্তি যখন প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করেন, তখন তার বিদায় সময়ও সেই মানবিক গুণাবলি মানুষের মনে স্থায়ী হয়ে থাকে। সমাজের মানুষ তাঁর মানবিক কাজ ও সততার জন্য তাঁকে স্মরণ করতেই থাকবেন; সেই স্মৃতি সমাজে অনুপ্রেরণা যোগাবে নতুন প্রজন্মের মানুষের কাছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তির পারিবারিক সদস্যের মৃত্যু সাধারণ মানুষের কাছে অনুভূতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। জ্ঞাত এই মৃত্যুতে সমবেদনার পাশাপাশি একটি সংহতি ও মানবিক স্পর্শ তৈরি হয় যা কোনো রাজনৈতিক দল বা সম্প্রদায়ের সীমানা ছাড়িয়ে যায়।

দিলারা হাফিজের মৃত্যু সংবাদটি সামনে আসার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা টেলিফোন, সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। তারা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “এটি একটি ব্যক্তিগত শোক হলেও পুরো জাতি একজন মানবিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে।”

একই সাথে, সাধারণ মানুষের অংশও শোকাহত। একজন বৃদ্ধ নাগরিক বলেন, ‘‘সমাজে তার মতো মানুষ বিরল। তার সহানুভূতি, সহায়তা ও সহযোগিতামূলক আচরণ আমাদের মন ছুঁয়েছে। আজ আমরা একজন মহান মানবকে হারালাম।’’

নারী নেতৃত্ব, দৃষ্টিভঙ্গি ও সমাজে পরিবেশিত মানবিক দিক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, “সমাজে যখন একজন নারী নেতৃত্ব এমন মানবিক কাজের জন্য সম্মানিত হন, তখন তাঁর অমর মানবিকতা জীবিত থেকে যায়। দিলারা হাফিজ সেই সব মহৎ চরিত্রের একজন প্রতীক।”

সমগ্র বাংলাদেশে তাঁর স্মৃতিচারণ, শোকসভা ও অন্তিম বিদায়ের দিন উপচে পড়া মানবিক সমবেদনা একদিকে যেমন একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক শিল্প হয়ে দাঁড়ায়, তেমনি অন্য দিকে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে একটি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

তিনি চলে গেলেও মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্মৃতি, মানবিক আচরণ ও মানবতাবোধ স্থায়ী হয়ে থাকবে। ইতিহাসে তিনি একজন নিঃসন্দেহে শ্রদ্ধেয় চরিত্র হিসেবে মনে রাখা হবে — একজন দায়িত্বশীল স্ত্রী, যত্নশীল মাতা, সমাজসেবী ও মানবিক নক্ষত্র হিসেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত