বর্তমান পোশাকে পুলিশ বাহিনী সন্তুষ্ট না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার
বর্তমান পোশাকে পুলিশ বাহিনী সন্তুষ্ট না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান পুলিশের পোশাক নিয়ে বাহিনী সন্তুষ্ট নয়। তাই সরকার আগের ঐতিহ্যমণ্ডিত পোশাক পুনঃপ্রবর্তনের বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। শনিবার দুপুরে পুলিশ একাডেমি সারদায় ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমে সারদার প্যারেড গ্রাউন্ডে অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ক্যাডেটদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও পুরস্কার প্রদান করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুলিশের পোশাক শুধু বাহিনীর পরিচয়ের প্রতীক নয়, এটি তাদের কর্মজীবনে আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বৃদ্ধিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।’’

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বাধীন ও শক্তিশালী পুলিশ সংস্কার কমিশন গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখা, যাতে তারা নিরপেক্ষভাবে জনগণের সেবা করতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদী আমলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ভঙ্গুর অবস্থার থেকে ক্রমান্বয়ে উন্নয়ন ঘটেছে। আজ পুলিশ বাহিনী একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।’’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুলিশ হবে জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও আমরা ঘোষণা করেছি, পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে আধুনিক, মানবিক ও সেবাধর্মী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের লক্ষ্য পুলিশের দক্ষ জনবল বৃদ্ধি ও মনোবল উন্নয়ন, যাতে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়, বরং জনগণের বন্ধু হিসেবে কাজ করতে পারে।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানটি ঘিরে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা স্পষ্ট দেখা যায়। ক্যাডেটরা প্যারেডে অভ্যাসে আনা কৌশল, শৃঙ্খলা, সমন্বয় ও দক্ষতা প্রদর্শন করেন।

উল্লেখযোগ্য, ২০২৫ সালের ১ মার্চ শুরু হওয়া ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের মোট ৭২ জন প্রশিক্ষণার্থী আজকের এই কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন। এই ব্যাচের প্রশিক্ষণ চলাকালীনকালীন প্রতিটি ধাপে শৃঙ্খলা, আধুনিক পুলিশিং কৌশল ও মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুলিশ শুধু আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নয়, তারা জনগণের সেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠান। তাই আধুনিক, দায়িত্বশীল ও মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের মূল অঙ্গীকার।’’ তিনি আরও যোগ করেন, সরকারের এই পদক্ষেপ কেবল পুলিশের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক নয়, বরং জনগণকে আইন-শৃঙ্খলার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও সেবা প্রদানেও সহায়তা করবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, পুলিশের পোশাক ও পরিচয়ের উপর মনোযোগ শুধুমাত্র বাহিনীর চেহারা বা বাহ্যিক দিক নয়, এটি তাদের কার্যক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস এবং জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের মান বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ও পরিচ্ছন্ন পোশাক, ঐতিহ্য এবং শৃঙ্খলার সংমিশ্রণ একটি আধুনিক পুলিশিং সংস্কৃতির প্রতিফলন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের প্রতি সহানুভূতিশীল, মানবিক ও দায়বদ্ধ আচরণ রাখা। পুলিশের শক্তি হচ্ছে জনগণের আস্থা, সেই আস্থা রক্ষা করতে আপনাদের সততা ও পেশাদারিত্ব অপরিহার্য।’’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বাহিনীকে শক্তিশালী করা নয়, বরং তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে সমাজের প্রতিটি নাগরিক তাদের নিরাপত্তা ও সহায়তা অনুভব করতে পারে।

এটি শুধু পুলিশিং নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্বের অংশও বটে। বর্তমান সরকার পুলিশের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ, মনোবল বৃদ্ধির কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করছে। এর মাধ্যমে পুলিশ শুধু আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নয়, বরং জনগণের বন্ধু ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

মন্তব্যকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম আরও নিরপেক্ষ ও কার্যকর হবে। আমরা চাই, জনগণ পুলিশকে তাদের বন্ধু হিসেবে দেখুক, শত্রু নয়।’’ পুলিশ আধুনিক, দক্ষ ও মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে ওঠার মাধ্যমে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এভাবে পুলিশের পোশাক সংস্কার, প্রশিক্ষণ ও আধুনিকীকরণ মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। সরকারি কর্মকর্তারা মনে করেন, নতুন পোশাক ও সংস্কার কার্যক্রম বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে। এর মাধ্যমে পুলিশ বাহিনী জনগণের পাশে আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে।

সর্বশেষ বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, ‘‘পুলিশ বাহিনী আধুনিক ও মানবিক হলে জনগণের আস্থা বাড়ে, শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।’’ এভাবেই সরকারের নতুন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ দেশের পুলিশিং সংস্কৃতিকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত