শ্রম অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার
শ্রম অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবি

প্রকাশ: ২৮ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং শ্রম খাতের টেকসই সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫) দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি এবং সাবেক শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তাসলিমা আখতার বলেছেন, শ্রমিক, মালিক ও সরকারের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হওয়া এই অধ্যাদেশ সংসদে পাস করে বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। তিনি মনে করেন, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত করতে এবং দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এ আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘জাতীয় সংসদের প্রতি আহ্বান, শ্রমিক অধিকার ও শ্রম খাতের সুরক্ষা–সংস্কারে শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫) আইনে পরিণত করো’ শীর্ষক এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (বাজাফে–১২)। শ্রমিক নেতারা বলেন, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে শ্রম আইন সংস্কার শুধু শ্রমিকদের স্বার্থেই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্যও অপরিহার্য।

তাসলিমা আখতার বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় প্রণীত অধ্যাদেশটি শ্রমিক, মালিক এবং সরকারের পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। তাই এটি সংসদে আইনে পরিণত করা নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদ সদস্যরা শ্রমিকবান্ধব এই আইন পাস করবেন। তাঁর মতে, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা গেলে শিল্প খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদ একটি ঐতিহাসিক গণ–অভ্যুত্থানের পটভূমিতে গঠিত হয়েছে, যেখানে ছাত্র, পেশাজীবী, নারী ও শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের আলোচনার ভিত্তিতে যে শ্রম অধ্যাদেশ তৈরি হয়েছে, তা আইনে পরিণত হলে শ্রম খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাসলিমা আখতার।

শ্রম অধ্যাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে শ্রমিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন করার অধিকার এবং ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের শর্ত সহজ করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি উৎসব ছুটি ও মাতৃত্বকালীন ছুটির সময়সীমা বৃদ্ধি, প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি মূল্যায়ন এবং যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা সংযোজনসহ মোট ১২৫টি ধারা সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। এসব পরিবর্তন শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন শ্রমিক নেতারা।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আলীফ দেওয়ান বলেন, ২০২৫ সালের শ্রম আইন সংশোধন ২০২৬ সালের সংসদে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশে শ্রমিকদের জন্য একটি জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা জরুরি। অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে।

নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা দেব বলেন, একটি দেশের গণতন্ত্র কতটা শক্তিশালী তা নির্ভর করে সে দেশের শ্রমিক, নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কতটা অধিকার পাচ্ছে তার ওপর। তিনি মনে করেন, শ্রমিকদের জন্য মানসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হলে দেশের উন্নয়ন আরও টেকসই হবে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বহুমুখী শ্রমজীবী সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভূঁইয়া বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের পর শ্রম কমিশন গঠিত হয়েছিল এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের মতামত সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার সেই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেবে। এতে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে এবং শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

মানববন্ধনে হাতিরঝিল সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান শাহাদাত হাওলাদার, কার ইউনিয়ন শ্রমিক সংহতির সংগঠক শহীদসহ আরও অনেক শ্রমিক নেতা বক্তব্য দেন। তারা বলেন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।

বিশ্লেষকদের মতে, শ্রম খাত দেশের অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হলে বিদেশি বিনিয়োগও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শ্রম অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে পরিণত করার দাবি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। শ্রমিক নেতারা মনে করেন, এই আইন বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য কমবে। একই সঙ্গে শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত