প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জামালপুরে স্টক রেজিস্ট্রারে ‘তেল শূন্য’ দেখিয়ে গোপনে ২ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল মজুত রাখায় জুঁই এন্টারপ্রাইজ নামের একটি তেল বিক্রেতাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে প্রশাসন তেলটি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালকদের কাছে বিতরণ করেন। এই ঘটনায় সকাল থেকে শহরের পিটিআই মোড়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং যানজট দ্রুত প্রশাসনের নজর কাড়ে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের পিটিআই মোড়ে জুঁই এন্টারপ্রাইজের দোকানের সামনে মোটরসাইকেল মালিকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। গভীর রাত থেকেই অনেকে তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সকাল ৯টার দিকে দীর্ঘ সময় তেল না পাওয়ায় বাইক চালকরা জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যান এবং উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। পথচারীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিএমএসআর আলিফ জানান, দোকানের স্টক রেজিস্টারে তেল শূন্য দেখলেও অভিযান চালিয়ে ১২ ড্রাম বা ২ হাজার ৫০০ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়। এরপর ওই দোকানের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তেল দ্রুত লাইনে থাকা গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “দোকানের সামনে লোকের ভিড় অনেক বেশি ছিল। আমাদের নজরেই তা ধরা পড়ে। মালিক আতঙ্কের কারণে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন। অভিযান শেষে অবিলম্বে বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়।”
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ বলেন, “দোকানে তল্লাশি চালিয়ে কিছু তেল পাওয়া গেছে। আমরা পরিস্থিতি শান্ত করতে দ্রুত সেখানে পৌঁছেছি। মজুদ থাকা তেল গ্রাহকদের মাঝে দ্রুত বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে আর কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে।”
জামালপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী জানান, প্রশাসন কোন ভাবেই তেল মজুত রাখার সুযোগ দেবে না। জেলা প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবসময় তদারকি রাখছে এবং জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, “আজ এই দোকানে অভিযান চালিয়ে মালিককে জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন অনিয়ম রোধের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
জেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে, জ্বালানি তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে যারা কোন লাইসেন্সবিহীন, ফিটনেসবিহীন বা সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন এই নির্দেশনা ৭টি উপজেলায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করছে এবং সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই শতাধিক মোটরসাইকেল চালক তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও দোকান বন্ধ থাকায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কে নেমে যান এবং মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, যাত্রী এবং পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। প্রশাসন ঘটনা এলাকায় দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও, বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতার বার্তা দিয়েছে।
এই ঘটনায় দেখা গেছে, স্টক রেজিস্টারে মিথ্যা তথ্য প্রদানের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো ব্যবসায়ী বা দোকান মালিক যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি যাত্রী ও সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ ও সময়মতো জ্বালানি তেল পান, তার জন্য ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় এবং জরিমানা কার্যকর করার মাধ্যমে তেল দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ফলে বিক্রেতা ও গ্রাহকদের মধ্যে একটি শিক্ষণীয় বার্তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন আশা করছে, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে জ্বালানি চোরাচালান রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং জনগণকে নিরাপদে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে।