নেত্রকোনায় গরু লুট বাধা দেয়ায় অন্তঃসত্তা সন্তান হারালেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার
নেত্রকোনায় গরু লুট বাধা দেয়ায় অন্তঃসত্তা সন্তান হারালেন

প্রকাশ: ২৮ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে একটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ৯ মাসের অন্তঃসত্তা রোকেয়া আক্তার তার গর্ভের সন্তানকে হারিয়েছেন। অভিযোগ করা হচ্ছে, গরু লুটের সময় তিনি বাধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন তার পেটে লাথি মেরে আহত করেন, যার ফলে নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মৃত নবজাতকের লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই পরিবারের মধ্যে পূর্বে ঘটে যাওয়া একটি ছোটখাটো সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে উত্তেজনা ইতিমধ্যেই বিরাজ করছিল। ১৪ মার্চ ওলিউল্লার ভাগনে আমিরুল ইসলামের হাঁস ডোবায় নেমে প্রতিবেশী আংগুর মিয়ার ডোবার পানি ঘোলা করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি হয়। সেই সময় দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হন এবং উভয় পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করে।

ঘটনার পর থেকে ওলিউল্লার পরিবারের পুরুষ সদস্যরা পুলিশের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পুলিশ অভিযানে গিয়ে কাউকে না পেয়ে চলে যায়। এরপর দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে আংগুর মিয়া তাঁর লোকজন নিয়ে ওলিউল্লার বাড়িতে হামলা চালান। তারা গোয়ালঘর থেকে গরু লুট করার চেষ্টা চালায়। এ সময় বাধা দেওয়ায় রোকেয়া আক্তারকে পেটে লাথি মারেন এবং অন্যান্যরাও কিল-ঘুষি মেরে তাকে আহত করেন।

পেটের তীব্র ব্যথায় চিৎকার শুরু করেন রোকেয়া। আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রোকেয়া গর্ভেই সন্তান প্রসব করেন। স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। রোকেয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তার চিকিৎসা চলছে।

রোকেয়ার স্বজনরা ঘটনার পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করছেন। ওলিউল্লা বলেন, “আগেও প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের হাঁস লুট করেছে এবং পিটিয়ে জখম করেছে। গভীর রাতে বাড়িতে হামলা চালিয়ে গরু লুট করার সময় তারা আমার অন্তঃসত্তা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তানকে হত্যা করেছে। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন মিয়া জানান, ঘটনার বিষয়ে দুটি পক্ষের বিবাদ রয়েছে। প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ঘটনা মিথ্যা, আবার ভুক্তভোগী পরিবার সত্য বলছে। তাই প্রকৃত ঘটনা বোঝা যাচ্ছে না। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করবে।

অভিযুক্ত আংগুর মিয়া দাবি করেছেন, এটি একটি সাজানো নাটক। তিনি বলেন, “আগের একটি ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ায় এটি আমাদের ফাঁসানোর জন্য সাজানো হয়েছে। ঘটনা মিথ্যা এবং আমরা এর সঙ্গে যুক্ত নই।”

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, খবর পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। থানায় মামলার পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনায় দুঃখ, আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নারী ও মাতৃত্বকালীন সুরক্ষার গুরুত্ব আরও একবার প্রমাণিত হলো। এলাকাবাসী আশা করছেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবেন। সমাজের ন্যায়বিচার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, বিশেষ করে অন্তঃসত্তা নারীদের ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে।

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে দ্রুত বিচার এবং হামলাকারীদের শাস্তি দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে এ ধরনের সহিংসতা পুনরায় না ঘটে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত