প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মাদারীপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ছোট-বড় বিরোধে রূপ নেয় সহিংস সংঘর্ষে। ঘটনা ঘটে পৌর শহরের থানতলী এলাকায়। শনিবার দুপুরে শহরের প্লানেট কমিউনিটি সেন্টারে পাকদী এলাকার শাহজাহানের ছেলে ইতালিপ্রবাসী মামুনের বিয়ের আয়োজন চলছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে থানতলী এলাকার ফজল খাঁর ছেলে আকিব এবং পাকদী এলাকার দবির মুন্সির ছেলে মঈন মুন্সির মধ্যে ছোটখাটো বাগবিতণ্ডা হয়। উপস্থিত অতিথিরা শুরুতে বিষয়টি মীমাংসা করলেও, সন্ধ্যার পর থেকেই দুই পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রথম দফা সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য প্রদর্শন করতে থাকে। স্থানীয়রা ভয় ও আতঙ্কে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে শান্তি অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সোমবার ভোররাতে। পাকদী এলাকায় হামলা চালিয়ে দুই পক্ষের লোকজন অন্তত অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং পাঁচজন আহত হন। আহতদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হলেও চিকিৎসকরা তাদের স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় সহিংসতা স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এবং সাম্প্রদায়িক শান্তি ভঙ্গ করে।”
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সংঘর্ষের মূল কারণ চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে থাকা পুরনো বিরোধ। যদিও প্রথমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু দেরিতে শান্তি ফেরাতে না পারায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই পক্ষের লোকজন একে অপরকে দোষারোপ করার পাশাপাশি নিজেদের আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা করে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশু ও বৃদ্ধরা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হন।
এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দুই পক্ষের মধ্যে দ্রুত মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছেন, শুধু প্রতিক্রিয়াশীল পুলিশি ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; সংঘর্ষ রুখতে সামাজিক সচেতনতা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ও প্রয়োজন।
মাদারীপুরের সাধারণ মানুষ এই ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা জানিয়েছেন, এমন ছোট বিষয় নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা স্থানীয় শান্তি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাঙন ঘটায়। শিশুদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনও প্রভাবিত হচ্ছে। সামাজিক সংগঠনগুলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘর্ষ প্রতিরোধে স্থানীয় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ঘটলেও মাদারীপুরের ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কারণ এখানে ককটেল বিস্ফোরণ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং বসতবাড়ি ভাঙচুরের মাধ্যমে দুই পক্ষের লোকজন সরাসরি সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। পুলিশি সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও, স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটেনি।
সংক্ষেপে, মাদারীপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ১৫টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। দুই পক্ষের তুচ্ছ বিরোধের কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন ও পুলিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে সামাজিক সচেতনতা ও স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যস্থতা ছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।