সুনামগঞ্জে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ১২ দোকান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • ৮ বার
সুনামগঞ্জে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ১২ দোকান

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ার এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১২টি দোকান, কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় এবং একটি বসতবাড়ি পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) রাত ১১টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে কোটি কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলফাত স্কয়ারের পূর্ব পাশে শহীদ মিনারের বিপরীতে থাকা একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে আগুন ছোট পরিসরে থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। দোকানগুলো পাশাপাশি লাগানো থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে। একপর্যায়ে আগুন দোকানের পেছনে থাকা একটি বসতবাড়িতেও ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি দক্ষিণ পাশের দোকানগুলোতেও আগুনের তীব্রতা দেখা যায়। এতে জুতা, কাপড়, ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিসও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আগুন দেখে চিৎকার শুরু করেন এবং নিজেরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তারা ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে প্রথমে শহরের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলার শান্তিগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা থেকে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আবদুল হালিম জানান, আগুনে দোকানের সব মালামাল পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, আগুন লাগার পর খুব দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে এবং কোনো কিছু বের করার সুযোগ পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, কয়েক কোটি টাকার মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে পানির সংকটের কারণে। আশপাশে তাৎক্ষণিকভাবে পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে থাকা পানি দিয়েই আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। পরে শহরের কালীবাড়ি পুকুর, থানার পুকুর এবং দোজা মার্কেটের পাশের আরেকটি পুকুর থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আলী হায়দার বলেন, দোকানগুলো খুব কাছাকাছি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আগে থেকেই অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার জন্য মৌখিক ও লিখিতভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই তা গুরুত্ব দেননি। ফলে আগুন লাগার পর প্রাথমিকভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জালাল আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

ঘটনার পর এলাকায় ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই আগুনের ভয়াবহতা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ব্যবসায়ীরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা না করা হলে তাদের পক্ষে আবার ব্যবসা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়বে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, শহরের বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। আগুন লাগার ঘটনা প্রায়ই বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি দোকানে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখা, বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন।

এই অগ্নিকাণ্ড আবারও শহরের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত