‘মিশন সিঙ্গাপুর’ ম্যাচে শেষ কাবরেরা-যুগ?

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৮ বার
বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর ফুটবল ম্যাচ

প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ফুটবল দল আজ সন্ধ্যায় ক্যালাংয়ের জাতীয় স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে। পাঁচ ম্যাচ শেষে গ্রুপে তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাল-সবুজরা মূলপর্বে ওঠার সম্ভাবনা হারিয়েছেন। তবে সম্মান রক্ষা ও ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাস অর্জনের দিক থেকে এই ম্যাচকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দল। এই ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জের কারণ শুধু প্রতিপক্ষ নয়, শিবিরেও রয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার আবহ।

বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক ও ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন নিষিদ্ধ থাকায় প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণে অভাব দেখা দিয়েছে। মিডফিল্ডার সোহেল রানা জুনিয়র চোটের কারণে দলে নেই। বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের সঙ্গে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর দল সিঙ্গাপুরের জন্য অনুশীলন করেছে কিছুটা শূন্যতা নিয়ে। মিডফিল্ডার মোহাম্মদ হৃদয় পুরো অনুশীলন থেকে বাইরে ছিলেন, আরেক মিডফিল্ডার শাহ কাজেম কিরমানি হালকা অনুশীলন করেছেন। এছাড়া ফরোয়ার্ড আরমান ফয়সাল অনুশীলনে সামান্য চোট পেয়েছেন। ফলে সিঙ্গাপুর ম্যাচেও তাদের পাওয়া যাবে না।

কানাডা প্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত ভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে জানাচ্ছেন, “চ্যালেঞ্জ রয়েছে, আমাদের মিডফিল্ডকে সৃজনশীলভাবে এগিয়ে রাখতে হবে।” বাংলাদেশের রণকৌশলে মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়া ও শমিত সোম তিনজনের উপর নির্ভরশীলতা বেশি। হামজা সদ্য চোট থেকে ফিরে এসেছে, তাই তার ম্যাচ ফিটনেস ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কোচ হাভিয়ের কাবরেরা জানিয়েছেন, “হামজা ভালো আছে, তবে পুরো ম্যাচের জন্য মানিয়ে নিতে সময় লাগবে।”

বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচটি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে আরও এক কারণে। স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার চুক্তি আগামী মাসেই শেষ হচ্ছে। চুক্তি নবায়নের সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়, ফলে এই ম্যাচকে অনেকেই কাবরেরা-যুগের শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। অনুশীলন শেষে পুরো দল কাবরেরার সঙ্গে ছবি তুলেছেন, যা দলের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ও প্রেরণার প্রতিফলন। বিজয় দিয়ে এই যুগ শেষ করার লক্ষ্যই হতে পারে।

সিঙ্গাপুরের দল গ্রুপে পাঁচ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। তাদের শক্তি মূলত দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইরফান ফ্যান্দি ও আক্রমণভাগে ইখসান ফ্যান্দি ও শাওয়াল আনুয়ারে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তাদের গতিময় আক্রমণ সামলানো। বাংলাদেশ প্রথম লেগে ১-২ গোলে হেরেছিল। শুরুতে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের ভুলে হেরে যায় লাল-সবুজরা। তাই ড্র করাই এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য।

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বলেছেন, “গ্রুপ থেকে উঠে যাওয়া না হলেও আমরা দেখাতে চাই, বাংলাদেশ বদলাচ্ছে।” দলের লক্ষ্য কেবল ফল নয়, অনুশীলন ও ম্যাচের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানো। মাঠের মধ্যে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

প্রাক্তন এবং নতুন খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণ, চ্যালেঞ্জপূর্ণ প্রতিপক্ষ এবং কোচ কাবরেরার সম্ভাব্য বিদায়ের প্রেক্ষাপটে আজকের ম্যাচ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বাংলাদেশ ফুটবলের একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। বিজয় বা সমানুপাতিক ফলেই দলের জন্য এই ম্যাচ হবে আত্মবিশ্বাসী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ভবিষ্যতের ভিত্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত