প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালী নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হলে এটি স্বাভাবিকভাবে পুনরায় খুলে যাবে। হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, সংঘাতের পর তেলবাজারে অস্থিরতা কমবে এবং তেলের সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার পেছনের প্রেক্ষাপটে।
ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এই কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়। ট্রাম্প বলেন, “ইরান প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, কঠিন কাজ শেষ হয়েছে, এখন সহজ হওয়া উচিত। সংঘাত শেষ হলে প্রণালী স্বাভাবিকভাবে খুলে যাবে। তারা তেল বিক্রি করতে চাইবে, কারণ পুনর্গঠনের জন্য এটিই তাদের একমাত্র উপায়।”
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪ ডলারে পৌঁছেছে। তবে ট্রাম্প বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেননি এবং আশা প্রকাশ করেন, প্রণালী খুলে গেলে তেলের প্রবাহ পুনরায় শুরু হবে এবং জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসবে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা সীমিত, মূলত এশিয়া ও অন্যান্য দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব বেশি। ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র প্রণালীর তেল প্রায় কোনো অংশ আমদানি করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। যেসব দেশ এই তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।”
বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়, যার বেশিরভাগই এশিয়ার দেশগুলোতে যায়। এই প্রণালী মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্প আরও বলেন, “যেসব দেশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পায়, তাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে, তবে প্রধান দায়িত্ব তাদের।” তিনি ইঙ্গিত দেন, ঘাটতির মুখে পড়া দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র যুদ্ধ শেষ হওয়া তেল সংকট সমাধান করবে না। প্রণালী পুনরায় না খোলার ক্ষেত্রে তেলের বাজারে স্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সমাধানও প্রয়োজন। ট্রাম্পের আশ্বাসের মধ্যে এই বার্তা স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হরমুজ প্রণালীর তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে স্থিতিশীল হতে পারে।
এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্ববাজারে তেলের চলাচলের প্রধান পথ। সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় এর ওপরে নির্ভরশীল দেশগুলো প্রভাবিত হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষণে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, সংঘাত সমাপ্তি ও প্রণালী খোলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পুনরায় স্থিতিশীল হবে।
বৈশ্বিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, যুদ্ধ শেষ হলেও হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য কূটনৈতিক সমঝোতা এবং স্থানীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা মূলত সহায়ক, কিন্তু প্রধান দায়িত্ব স্থানীয় দেশের ওপর। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, হরমুজ প্রণালীর পুনঃখোলা কেবল যুদ্ধ সমাপ্তির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের ওপরও নির্ভর করছে। ট্রাম্পের আশ্বাস আন্তর্জাতিক বাজারে সাময়িকভাবে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য কার্যকর কৌশল গ্রহণ অপরিহার্য।
উপসংহারে বলা যায়, হরমুজ প্রণালী খোলার প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আশ্বাস আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তবে মূল চ্যালেঞ্জ রয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা এবং স্থানীয় দেশগুলোর কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানের। তেলের বাজার, বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোর উপর এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি এবং জটিল। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুসারে, সংঘাত সমাপ্তি এবং প্রণালী খোলার মাধ্যমে তেলের প্রবাহ পুনরায় স্বাভাবিক হবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে।