সর্বশেষ :
সীমান্তে আটক ভারতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক, গ্রহণে অনীহা বিএসএফের চরের ১০ স্কুলে শিক্ষা সংকট, শ্রেণিকক্ষেই মাদকসেবন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন তথ্য উপদেষ্টা রাজধানীতে অভিযান, ডিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি মোশারফ গ্রেফতার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, বাসের চাপায় প্রাণ গেল যুবকের ১২ বছর ধরে অচল একটি সেতু, দুর্ভোগে কুড়িগ্রামের হাজারো মানুষ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত, আশাবাদ সরকারের বোয়ালমারীতে মাদক কারবারির সন্দেহে গণপিটুনি, ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল প্রাইভেটকার এক মাসে চারবার ভূমিকম্প, বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত নাকি স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া? চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে পারে বাংলাদেশ

মার্কিন সেনাপ্রধান র‍্যান্ডি জর্জকে পদত্যাগের নির্দেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৪ বার
মার্কিন সেনাপ্রধান র‍্যান্ডি জর্জকে পদত্যাগের নির্দেশ

প্রকাশ: ৩ এপ্রিল  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে আকস্মিক পরিবর্তন ঘটেছে। দেশটির সেনাপ্রধান বা চিফ অব স্টাফ জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে পদত্যাগ করে তাৎক্ষণিক অবসরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পক্ষ থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রশাসনের নীতিগত অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে নেতৃত্বের পরিবর্তন প্রয়োজন মনে করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এমন একজন সেনাপ্রধান চান, যিনি তাদের সামরিক ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে সক্ষম হবেন। এ কারণে বর্তমান নেতৃত্বে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জ অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ৪১তম চিফ অব স্টাফ পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন। তিনি দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ তার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞ। একইসঙ্গে তার অবসর জীবনের জন্য শুভকামনাও জানানো হয়েছে। তবে এই অবসর প্রক্রিয়া কতটা স্বেচ্ছায় এবং কতটা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিরক্ষা দফতরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, জেনারেল জর্জের দীর্ঘ সামরিক জীবনের অবদানকে সম্মান জানানো হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিবর্তনের সময় এসেছে বলে মনে করছে প্রশাসন। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সামরিক কৌশল, আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন গতি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে আরও দুইজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা হলেন জেনারেল ডেভিড হোডনে এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন। জেনারেল হোডনে সেনাবাহিনীর ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন এবং মেজর জেনারেল গ্রিন সেনাবাহিনীর চ্যাপলেইন কোরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের অপসারণের খবর প্রথম প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট। এই সিদ্ধান্তগুলোকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন পেশাদার পদাতিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সামরিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক একাডেমি ওয়েস্ট পয়েন্টের স্নাতক এবং কর্মজীবনের শুরু থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিশনে অংশ নিয়েছেন। উপসাগরীয় যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইরাক ও আফগানিস্তানের সংঘাতে তার অংশগ্রহণ রয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কৌশলগত পরিকল্পনা ও সামরিক নেতৃত্বে তার ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরে প্রশংসিত হয়েছে।

জর্জ ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাইডেন প্রশাসনের সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের জ্যেষ্ঠ সামরিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ পদে মনোনীত করেন। ২০২৩ সালে মার্কিন সিনেট তার নিয়োগ অনুমোদন করে। সাধারণত এই পদে চার বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করা হয় এবং সেই হিসেবে তার মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতিতে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বে রদবদল অস্বাভাবিক নয়। নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়নে উপযুক্ত নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে। তবে উচ্চপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার একসঙ্গে পদত্যাগ বা অপসারণ অনেক সময় নীতিগত বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেয়।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া অঞ্চলে বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। ফলে দেশটির সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। একইসঙ্গে প্রশাসনের নীতিগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামরিক কৌশল নির্ধারণ করা সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একজন সেনাপ্রধানকে অবসরে পাঠানো সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, প্রশাসনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

বর্তমানে জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। তবে প্রতিরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে দ্রুত নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে দেশটির প্রতিরক্ষা নীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত