৪৪ বছরের ‘সুগার’ হলো বিশ্বের সবচেয়ে বৃদ্ধ কবুতর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার
বিশ্বের সবচেয়ে বয়সী কবুতর ‘সুগার’

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পোষা কবুতর নতুন এক অনন্য রেকর্ড স্থাপন করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী জীবিত কবুতর হিসেবে এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছে। এই অসাধারণ কবুতরের নাম ‘সুগার’ এবং এর বয়স ৪৪ বছর ৭২ দিন, যা সাধারণ পোষা কবুতরের স্বাভাবিক আয়ু প্রায় দ্বিগুণের চেয়ে বেশি।

সুগারের মালিক, চেস্টারফিল্ডের বাসিন্দা ডিভাইন অররেন্ডার, জানিয়েছেন যে, তার কবুতর পূর্ববর্তী রেকর্ডধারী জার্মানির ‘মেথুসেলাহ’-র চেয়ে ১৫ বছর বেশি বেঁচে আছে। তিনি বলেন, সুগারের দীর্ঘায়ু প্রকৃতপক্ষে বিস্ময়কর, কারণ সাধারণত পোষা কবুতরের আয়ু ২০ বছরের মধ্যে সীমিত থাকে। এই অসাধারণ জীবনকাল সুগারকে বিশেষভাবে আলাদা করে তুলেছে।

ডিভাইন অররেন্ডার আরও জানিয়েছেন, সুগারের পিতা-মাতাও তার পোষা প্রাণী ছিল এবং প্রায়শই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিশে থাকত। সুগারের দৈনন্দিন জীবনধারা বেশ শান্তিপূর্ণ। মালিকের সঙ্গে সোফায় বসে টেলিভিশন দেখা তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের নিদর্শন। তারা একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসে, যা সুগারের মানসিক এবং শারীরিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুগারের দীর্ঘায়ুর রহস্য তার যত্ন, নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং শান্তিপূর্ণ জীবনধারায় নিহিত। সঠিক খাওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মালিকের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুগারের এই রেকর্ডবদ্ধ জীবনযাত্রাকে সম্ভব করেছে। তারা আরও উল্লেখ করেছেন, সাধারণত বন্য কবুতরের জীবনকাল স্বল্প, কিন্তু পোষা পরিবেশে সঠিক যত্ন নেওয়া হলে কবুতর অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘজীবী হতে পারে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের মতে, সুগারের এই রেকর্ড নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পোষা প্রাণীর জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে, যেখানে সঠিক যত্ন ও ভালোবাসা দীর্ঘায়ুর মূল চাবিকাঠি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সুগারের জন্মের তথ্য, তার পরিবারের ইতিহাস এবং পরিচর্যার ধারা বিস্তারিতভাবে রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সুগারের মালিক উল্লেখ করেছেন, তার জীবনের সঙ্গে সুগারের গভীর বন্ধন রয়েছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া এবং রাতের সময় পর্যন্ত সুগার মালিকের সঙ্গে থাকে। এই সম্পর্কের ফলে সুগার মানসিকভাবে শান্ত এবং সুস্থ থাকে, যা তার দীর্ঘায়ুর অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুগারের রেকর্ড শুধু একটি প্রাণীর জীবনের মাইলফলক নয়, বরং এটি মানুষের জন্যও শিক্ষণীয়। পোষা প্রাণীর সঠিক যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাদ্য, নিরাপদ পরিবেশ এবং মালিকের প্রতি ভালোবাসা তাদের জীবনকাল বাড়াতে সহায়ক। সুগারের কাহিনি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রাণীপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, সুগারের স্বাস্থ্যগত অবস্থা এখনও ভালো এবং তার দৈনন্দিন জীবনধারা স্বাভাবিক। মালিকের সঙ্গে সময় কাটানো, সামাজিক ক্রিয়াকলাপে অংশ নেওয়া এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ তাকে সতেজ ও সুস্থ রাখছে। এটি প্রমাণ করে যে, পোষা প্রাণীর দীর্ঘায়ু নির্ভর করে কেবল জেনেটিক্সের ওপর নয়, বরং জীবনধারা ও যত্নের ওপরও।

সুগারের রেকর্ডবদ্ধ জীবনকাল সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের উৎসাহ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। পোষা প্রাণীর যত্নের ক্ষেত্রে এটি মানুষের মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে এবং দীর্ঘায়ু অর্জনের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরবে। এছাড়াও, সুগারের কাহিনি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রাণীপ্রেম এবং দায়িত্বশীল পরিচর্যার ধারণা বিকাশে সহায়ক।

মোটকথা, যুক্তরাষ্ট্রের এই পোষা কবুতর সুগারের গল্প কেবল একটি রেকর্ড নয়, বরং এটি মানব এবং প্রাণীর সম্পর্কের সৌন্দর্য এবং যত্নের ফলাফলকে তুলে ধরে। সুগারের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ জীবন পৃথিবীর পোষা প্রাণী প্রেমীদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত