ঘরের কাজে স্ত্রীর পাশে থাকা সওয়াব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
ঘরের কাজে স্ত্রীর পাশে থাকা সওয়াব

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইসলাম শুধু ইবাদতের ধর্মই নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা—যেখানে পারিবারিক সম্পর্ক, দাম্পত্য ভালোবাসা এবং মানবিক দায়িত্বশীলতার প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নির্দেশিত হয়েছে। একটি সুখী, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল সংসারের জন্য স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহমর্মিতা এবং সহযোগিতা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে ঘরের কাজে স্ত্রীকে সহযোগিতা করা যে শুধু নৈতিক দায়িত্বই নয়, বরং এর মধ্যে রয়েছে অসংখ্য সওয়াব ও বরকত—এ বিষয়টি হাদিস ও নবীজির জীবনী থেকেই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে অত্যন্ত গভীর ও আন্তরিক বন্ধন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সূরা আল-বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “স্ত্রীরা তোমাদের পোশাক আর তোমরা তাদের পোশাক।” এই আয়াতের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য নিরাপত্তা, শান্তি, গোপনীয়তা ও ভালোবাসার আশ্রয়। একটি পোশাক যেমন মানুষের শরীরকে রক্ষা করে এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, তেমনি দাম্পত্য জীবনে একজন আরেকজনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ছিল এই শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। তিনি ছিলেন মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। শুধু ধর্মীয় নেতৃত্বই নয়, বরং পারিবারিক জীবনেও তিনি ছিলেন দৃষ্টান্ত। হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের কাপড় নিজেই সেলাই করতেন, জুতা মেরামত করতেন এবং ঘরের নানা কাজে অংশ নিতেন। তিনি ঘরের কাজকে কখনো অবহেলা করেননি, বরং আনন্দের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়াতেন। এটি প্রমাণ করে যে, ঘরের কাজে অংশ নেওয়া কোনো মর্যাদাহানির বিষয় নয়, বরং এটি একজন পূর্ণাঙ্গ চরিত্রবান মানুষের বৈশিষ্ট্য।

অন্য একটি হাদিসে হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, রাসুলুল্লাহ (সা.) কি পরিবারের কাজে সাহায্য করতেন? উত্তরে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, তিনি পরিবারের কাজে সহযোগিতা করতেন এবং নামাজের সময় হলে নামাজের জন্য বের হতেন।” এই বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, দুনিয়াবি দায়িত্ব এবং আধ্যাত্মিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা বজায় রাখতে নবীজি (সা.) সবসময় স্ত্রীদের প্রশংসা করতেন এবং তাদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতেন। তিনি কখনো স্ত্রীদের অবমূল্যায়ন করেননি, বরং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় জানা যায়, নবীজি (সা.) হজরত খাদিজা (রা.)-কে সবসময় গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করতেন। এই আচরণ পারিবারিক জীবনে ভালোবাসা, সম্মান ও আস্থার ভিত্তি গড়ে তোলে।

আধুনিক সমাজে যেখানে অনেক পরিবারে ব্যস্ততা, মানসিক চাপ এবং পারস্পরিক দূরত্ব বাড়ছে, সেখানে নবীজির এই শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের কাজে স্ত্রীর পাশে দাঁড়ানো শুধু শারীরিক সহায়তাই নয়, এটি মানসিক সমর্থন ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। একজন স্বামী যখন স্ত্রীর কষ্ট বুঝে তার কাজে সাহায্য করে, তখন সংসারে শান্তি, সন্তুষ্টি এবং ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।

ইসলাম পারিবারিক জীবনকে শুধু দায়িত্বের জায়গা হিসেবে দেখেনি, বরং এটিকে ইবাদতের অংশ হিসেবেও মূল্যায়ন করেছে। একজন স্বামী যদি আন্তরিকভাবে স্ত্রীর কাজের সহযোগিতা করে, তার কষ্ট ভাগ করে নেয় এবং তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, তবে তা আল্লাহর কাছে একটি পুণ্যের কাজ হিসেবে গণ্য হয়। এতে শুধু পার্থিব শান্তিই নয়, বরং পরকালীন পুরস্কারেরও আশা করা যায়।

আজকের সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, ঘরের কাজকে শুধুমাত্র নারীর দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়। অথচ ইসলাম এমন দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন আমাদের শিক্ষা দেয় যে, দাম্পত্য জীবনে দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং পারস্পরিক সহযোগিতাই প্রকৃত সুখের চাবিকাঠি। একজন পুরুষের মর্যাদা তার দায়িত্ব পালনের মধ্যেই নিহিত, আর সেই দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পরিবারের পাশে থাকা।

পরিশেষে বলা যায়, ঘরের কাজে স্ত্রীর পাশে থাকা শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং এটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এবং নবীজির সুন্নত। এতে যেমন পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়, তেমনি আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জিত হয়। ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে একটি পরিবার হয়ে উঠতে পারে শান্তি ও সুখের আশ্রয়স্থল—যা প্রত্যেক মানুষেরই কাঙ্ক্ষিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত