জিয়া সরণি খাল যুক্ত হবে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার
জিয়া সরণি খাল যুক্ত হবে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং নগরীর নৌ-সংযোগ ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে যুক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী Mair Shah Alam জানিয়েছেন, এই অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই জলাধারকে পুনর্গঠন ও প্রবাহমান করা হবে, যা দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণে সংকটে রয়েছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর জিয়া সরণি খাল, কোনাপাড়া খাল এবং কুতুবখালী খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও পরিকল্পনার অভাবে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে খালগুলোকে পুনরায় জীবন্ত করা এবং নগর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করা হলে শুধু জলাবদ্ধতা কমবে না, বরং নৌপথ পুনরুদ্ধার, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার অন্যতম মূল কারণ হলো খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া।

প্রতিমন্ত্রী Mair Shah Alam বলেন, যেসব খাল দখল হয়ে গেছে বা যেগুলোতে অবৈধ স্থাপনা তৈরি হয়েছে, সেগুলো উচ্ছেদে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, সরকার কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাবে নয়, বরং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় খাল খনন, পুনঃখনন, পানি প্রবাহ পুনঃস্থাপন এবং দুই প্রান্তে সংযোগ স্থাপনের কাজ করা হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিক ও টেকসই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খালের দুই পাশের পরিবেশ উন্নয়ন এবং সবুজায়নের উদ্যোগও গ্রহণ করা হবে।

এই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে রাজধানীকে বাসযোগ্য করতে এই ধরনের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে বিরোধী মহল দাবি করছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে অর্থ অপচয় বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী, খাল, নালা ও জলাধার পুনরুদ্ধারের একটি বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই রাজধানীর খালগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পানি ব্যবস্থাপনা এখন একটি জাতীয় অগ্রাধিকার।

জানা গেছে, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা ও খাল পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৫৪টি জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সমস্যায় ভুগছেন। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল দখল এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ এই সমস্যাকে আরও জটিল করেছে। তাই জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগকে তারা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, খাল ও নদীর সংযোগ পুনঃস্থাপন করা গেলে ঢাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে প্রকল্প সফল করতে হলে দখলদার উচ্ছেদ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিবেশগত তদারকি অত্যন্ত জরুরি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যাতে খালের পানিপ্রবাহ দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকে। পাশাপাশি খালের দুই পাশে হাঁটার পথ, সবুজ বেষ্টনী এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো তৈরির কথাও বিবেচনায় রয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে জরিপ ও নকশা প্রণয়ন শুরু হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে খনন ও সংযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন হলে ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাবে।

সব মিলিয়ে রাজধানীর জল ব্যবস্থাপনায় এটি একটি বড় ধরনের উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ কম নয়, তবুও সরকার ও নীতিনির্ধারকদের আশা, সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এই প্রকল্প ঢাকার পরিবেশ ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত